কলকাতা: সামনেই হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগেই বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছাবার্তাতেও আছড়ে পড়ল ভোটের উত্তাপ। একদিকে যখন বাংলা ভাষায় পোস্ট করে বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনাকে প্রশংসায় ভরালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ঠিক তখনই নববর্ষের শুভেচ্ছার মোড়কে নাম না করে বিজেপিকে তীব্র নিশানা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাঙালির ঐতিহ্যকে কুর্নিশ প্রধানমন্ত্রীর
বুধবার নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় তিনি লেখেন, “শুভ নববর্ষ! পয়লা বৈশাখের বিশেষ দিনে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।” শুধু শুভেচ্ছাই নয়, এক্স হ্যান্ডেলে দু’টি কার্ড পোস্ট করে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়েছেন তিনি। বাংলা কার্ডটিতে মোদী লিখেছেন, “প্রার্থনা করি আগামী বছরে আপনার সব কামনা পূরণ হোক। আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা সদাবিরাজমান থাকুক।” ভারতের সভ্যতার চেতনাকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের কালজয়ী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাও তাঁর বার্তায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
‘বিভেদকামী’ শক্তিকে রুখতে শপথ মমতার
প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার দিনেই সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বার্তায় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। রাজ্যবাসীকে ‘শুভনন্দন’ জানিয়ে তিনি লিখেছেন, “এই নবীন ঊষালগ্নে আপনাদের প্রত্যেকের জীবন হয়ে উঠুক গ্লানিমুক্ত। নতুনের এই আবাহনে প্রতিটি প্রাণ পবিত্রতায় ভরে উঠুক।”
এরপরই নাম না করে গেরুয়া শিবিরকে নিশানা করে তিনি কড়া বার্তা দেন। মুখ্যমন্ত্রী দেশবাসীকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়ে লেখেন, “আসুন আমরা সমবেতভাবে শপথ নিই; সবরকম সংকীর্ণতার দেওয়াল ভেঙে আমরা বেরিয়ে আসব। কোনও বিভেদকামী-স্বৈরাচারী শক্তি যেন আমাদের চিরকালীন শান্তি, ঐতিহ্যগত সম্প্রীতি আর সৌহার্দ্যের বন্ধন ছিন্ন করতে না পারে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, নববর্ষের এই পুণ্যলগ্নে দুই শীর্ষ নেতার এই শুভেচ্ছাবার্তা আসলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক এবং রাজনৈতিক মতাদর্শকে আরও একবার শানিয়ে নেওয়ার কৌশল।




















