কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকার PM-POSHAN (মিড-ডে মিল) প্রকল্পে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন, রাজ্যের প্রায় ২.২৪ লক্ষ কুক-কাম-হেল্পারের মাসিক ভাতা ২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে রাজ্যের অতিরিক্ত প্রায় ২২৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ মুখ্যমন্ত্রী জানান, কুক-কাম-হেল্পারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের আরও পুষ্টিকর খাবার এবং নিরাপদ রান্নাঘরের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
PM-POSHAN রান্নার খরচও বাড়ছে
সরকার জানিয়েছে, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের প্রায় ৫১.৬১ লক্ষ পড়ুয়ার জন্য মাথাপিছু রান্নার খরচ প্রতিদিন ৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হবে। এর ফলে মিড-ডে মিলের পুষ্টিগুণ আরও উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে।
Also Read | দুর্গাপুরে খালি করা হচ্ছে সরকারি জমি! বুলডোজার চলছে একের পর এক বাম সংগঠনের অফিসে
PM-POSHAN সব স্কুলে LPG সংযোগ
PM-POSHAN প্রকল্পের আওতায় থাকা প্রতিটি স্কুলে ১০০ শতাংশ LPG ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য। এজন্য প্রতিটি স্কুলের LPG সংযোগের ৩,০০০ টাকা ইনস্টলেশন খরচ সরকার বহন করবে। নিরাপদ রান্নাঘর এবং উন্নত পুষ্টি নিশ্চিত করতে এই খাতে ৪১৪.৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই প্রকল্পগুলির জন্য রাজ্য মোট ৬৩৯ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সিদ্ধান্তগুলির মাধ্যমে স্কুলশিক্ষা আরও শক্তিশালী করা, কুক-কাম-হেল্পারদের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং পড়ুয়াদের নিরাপদ পরিবেশে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
Also Read | প্রধানের ক্ষমতা ছেঁটে সচিবদের হাতে আর্থিক দায়িত্ব: পঞ্চায়েত আইনে আসছে বদল
১ অগস্ট থেকে কলকাতায় রান্না (PM-POSHAN) করবে ইসকন
এর আগে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, ১ অগস্ট থেকে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার স্কুলগুলিতে ইসকন (ISKCON) রান্না করা মিড-ডে মিল সরবরাহ শুরু করবে। প্রথমে সংস্থার বিদ্যমান রান্নাঘর থেকেই খাবার সরবরাহ করা হবে। পরে রাজ্য সরকারের দেওয়া জমিতে একটি কেন্দ্রীয় রান্নাঘর (Central Kitchen) তৈরির বিষয়েও আলোচনা চলছে।
উদ্বেগে স্বনির্ভর গোষ্ঠী
তবে এই ঘোষণার পর উদ্বেগে পড়েছেন দীর্ঘদিন ধরে মিড-ডে মিল রান্নার সঙ্গে যুক্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, বিষয়টি সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি।
এক স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মুখপাত্র ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, সংবাদমাধ্যম থেকেই তাঁরা বিষয়টি জানতে পেরেছেন। বর্তমানে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং সরকারি নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।





