ফুলবাড়ি: সরকারি জলাশয় ভরাট করে দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে (Phulbari) চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ফুলবাড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের শান্তিপাড়া এলাকায়। অভিযোগের তির বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য দীপালী রায়ের বিরুদ্ধে। সোমবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা জলাশয়ের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন এবং পঞ্চায়েত সদস্যকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই সরকারি জলাশয়টি একই অবস্থায় ছিল। বামফ্রন্ট কিংবা তৃণমূল কোনও সরকারের আমলেই জলাশয়টি ভরাট করা হয়নি। কিন্তু বর্তমানে বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েত গঠনের পর হঠাৎ করেই ওই সরকারি জলাশয়ে ট্রাকের পর ট্রাক বালি ফেলে ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ।
বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, প্রথমে জানানো হয়েছিল ওই জায়গা ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করা হবে। কিন্তু পরে সেখানে মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে একটি ব্যানার টাঙানো হয়। এরপর থেকেই এলাকায় অসন্তোষ বাড়তে থাকে। বিষয়টি নিয়ে একটি সালিশি বৈঠকও হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। কিন্তু সেই বৈঠকের পরও ভরাটের কাজ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ।
এলাকার একতা সংঘ ক্লাব এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ইতিমধ্যেই নিউ জলপাইগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের দাবি, সরকারি জলাশয় ভরাট করা পরিবেশ ও আইন উভয়ের বিরুদ্ধেই যায়। তাই অবিলম্বে এই কাজ বন্ধ করে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অন্যদিকে, অভিযোগ প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত সদস্য দীপালী রায় জানান, তাঁর উদ্যোগেই বালি ফেলা হচ্ছে এবং সেখানে একটি মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই ঘটনায় বড় প্রশ্ন উঠেছে সরকারি জলাশয় ভরাট করে কোনও নির্মাণকাজ করা কি আইনসিদ্ধ? প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়া কীভাবে এই কাজ শুরু হল? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাজুড়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। প্রশাসন অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।



