উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় রবিবার রেড অ্যালার্ট জারি (weather update) করেছে আবহাওয়া দপ্তর। দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। লাগাতার বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ও সমতল দুই অঞ্চলের জনজীবনেই প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে পাহাড়ি জেলাগুলিতে ধস নামার আশঙ্কা থাকায় পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস(weather update) অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় সক্রিয় থাকবে নিম্নচাপজনিত বৃষ্টিবলয়। এর ফলে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের উঁচু এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের মতো সমতল জেলাগুলিতেও জল জমার সমস্যা এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনগুলি কন্ট্রোল রুম চালু করেছে।(weather update) পাহাড়ি রাস্তাগুলিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও ভাবনা চলছে। বিশেষ করে জাতীয় সড়কগুলিতে ভারী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছে, আবহাওয়ার অবনতি হলে অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোই ভালো।
দার্জিলিংয়ের পর্যটন নির্ভর অর্থনীতির উপরও এই বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হোটেল ও ট্রাভেল সংস্থাগুলি পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। অনেক পর্যটক ইতিমধ্যেই বুকিং পরিবর্তন বা সফর সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে, চা বাগান অঞ্চলেও শ্রমিকদের কাজের সময়সূচি আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে পরিবর্তন করা হতে পারে। কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতে ছোট নদী (weather update) ও ঝরনার জলস্তর দ্রুত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য দলগুলি স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে (weather update) পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও কোনও বড় ধরনের সতর্কতা জারি হয়নি। ফলে শহরবাসীর জন্য বড় কোনও বিপদের আশঙ্কা আপাতত নেই।
তবে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়ায় শহরের কিছু অংশে জল জমার সমস্যা দেখা দিতে পারে। যান চলাচলেও সামান্য বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস টাইমে রাস্তায় যানজট বাড়তে পারে। নাগরিকদের তাই প্রয়োজন অনুযায়ী যাতায়াত পরিকল্পনা করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



