ঢাকা: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুরিগ্রাম-২ আসনে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (Atikur Rahman)-র প্রার্থী আতিকুর রহমান মুজাহিদ (আতিক মুজাহিদ) বিজয়ী হয়েছেন। এই ফলাফল উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আতিক মুজাহিদকে অনেকে ‘হিন্দু গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড’ এবং ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলোকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন।
তিনি লালমনিরহাটে পাকিস্তান-চীন যৌথ এয়ারবেস তৈরির হুমকিও দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে এনসিপি জামায়াতে ইসলামী-নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের অংশীদার ছিল। এনসিপি ৬টি আসনে জিতেছে, তার মধ্যে কুরিগ্রাম-২-এ আতিক মুজাহিদ ১,৭৮,৮৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এনসিপি-র কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে তিনি পরিচিত।
আরও দেখুন: মাদক-সহ গ্রেফতার বিজেপির মণ্ডল সভাপতি! কোচবিহারে শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর
নির্বাচনের আগে ‘জুলাই ঐক্য’ আন্দোলনে তিনি ‘বাংলাদেশ আফগান হবে, আমরা সবাই তালিবান’ স্লোগান দিয়ে নিজেকে ‘মুজাহিদ’ বা যোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন বলে অভিযোগ। এই স্লোগান সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল এবং ধর্মীয় চরমপন্থার অভিযোগ তুলেছে।আতিক মুজাহিদের বিজয় নিয়ে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারসহ সীমান্ত জেলাগুলোতে আশঙ্কা বাড়ছে।
অনেকে মনে করছেন, এতে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ বাড়তে পারে। কুরিগ্রাম ভারতের কোচবিহারের সঙ্গে সীমান্তবর্তী, যেখানে ইতিমধ্যে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। আতিকের মতো ব্যক্তির সাংসদ হওয়ায় স্থানীয় জিহাদি গোষ্ঠী উৎসাহিত হতে পারে বলে আশঙ্কা। উত্তরবঙ্গের প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে, সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং যেকোনো অস্বাভাবিক গতিবিধি রুখতে সক্রিয় থাকতে হবে।
এনসিপি ‘জুলাই বিপ্লব’-এর ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা দল। নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এটি জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। আতিক মুজাহিদের প্রচারে কুরআন তেলাওয়াত করে ভোটারদের আকর্ষণ করেছেন, যা স্থানীয় হিন্দু ভোটারদেরও প্রভাবিত করেছে বলে দাবি। কিন্তু তার অতীত বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক। ‘হিন্দু গণহত্যা’র অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও তিনি বা দল এসব অস্বীকার করেনি বা স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করেনি।
লালমনিরহাটে পাক-চীন এয়ারবেসের হুমকি ভারতের জন্য কৌশলগত উদ্বেগের বিষয়।এই বিজয়ের পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি উঠেছে। উত্তরবঙ্গের প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। স্থানীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যদি চরমপন্থী এজেন্ডা চালান, তাহলে অনুপ্রবেশ, অস্ত্র চোরাচালান ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়তে পারে। কোচবিহার জেলা প্রশাসনকে প্রো-অ্যাকটিভ হতে হবে সীমান্ত পাহারা, গোয়েন্দা নজরদারি ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে।




















