
কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনার নিমতা থানা এলাকায় গভীর রাতের পুলিশি অভিযানে (nimta)ধরা পড়ল ৮ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং তাঁদের আশ্রয়দাতা এক ভারতীয় নাগরিক। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনে নিমতা থানার পুলিশ ফতুল্লাপুর (ফতেল্লাপুর) এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু জাল নথিও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত রবিবার রাতে গোলবাগান বাজার এলাকায় এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে আটক করে নিমতা থানার টহলরত পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি অসংলগ্ন উত্তর দিতে শুরু করলে পুলিশের সন্দেহ আরও গভীর হয়। পরে দীর্ঘ জেরায় সে স্বীকার করে যে, সে অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছে। এরপরই তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।
আরও দেখুনঃ তেলের দাম বাড়তেই নবান্নের মেগা অ্যাকশন! জ্বালানিতে রাশ টানতে গুচ্ছ নির্দেশিকা মুখ্যমন্ত্রীর
ধৃত ব্যক্তির বয়ানের সূত্র ধরে রাতেই ফতুল্লাপুর এলাকার একটি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে গিয়ে পুলিশ আরও কয়েকজনকে আটক করে। পরে নথিপত্র খতিয়ে দেখে এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যিনি তাঁদের আশ্রয় দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
ধৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের নাম সুমন গাইন, বাহারুল মণ্ডল, আবদুল রহমান সর্দার, রিয়াজ মণ্ডল, ইলিয়াস সর্দার, জাহারা বিবি, আনোয়ার বিবি ও সুমি বিবি। এদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ এবং ৩ জন মহিলা। অন্যদিকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ভারতীয় নাগরিকের নাম শহিদুল ইসলাম। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন ভুয়ো পরিচয়পত্র, সন্দেহজনক নথি এবং কিছু মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নথিগুলির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্র সক্রিয় ছিল। কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এরা ভারতে ঢুকেছে, কারা তাঁদের সাহায্য করেছে এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্য কোথাও এই চক্রের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এর পিছনে বড় কোনও জাল নথি চক্রও সক্রিয় থাকতে পারে। আবার এই অনুপ্রবেশের পিছনে মাদকের চোরাচালান এবং নাশকতার ছক ও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
ধৃতদের সোমবার ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালত তাঁদের ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। বিশেষ করে সীমান্ত পারাপারের রুট, স্থানীয় যোগাযোগ এবং জাল নথি তৈরির নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর থেকেই নিমতা ও ফতুল্লাপুর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এলাকায় বাইরের লোকজনের আনাগোনা গত কয়েক মাস ধরে বেড়েছিল। যদিও তাঁরা বুঝতে পারেননি যে এদের মধ্যে কেউ অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করেছে। পুলিশের এই অভিযানের পর এলাকায় আতঙ্কের পাশাপাশি স্বস্তির পরিবেশও তৈরি হয়েছে।
ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে একাধিক জায়গায় আরও তল্লাশি চালানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

