
ভোটের ঠিক আগের রাতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের নওদা। নির্বাচনী আবহে যখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে, তখনই নওদা বিধানসভার শিবনগর এলাকায় বোমাবাজির অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে রাস্তার উপর পরপর বোমা ফাটানো হয়, যার জেরে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। (Humayun Kabir) স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির কিছু কর্মী জড়িত থাকতে পারে।
ঘটনাটি ঘটে ভোটের ঠিক আগের রাতে, যখন গোটা রাজ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। শিবনগর এলাকার রাস্তার ধারে হঠাৎ করেই বিকট শব্দে বোমা ফাটার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। (Humayun Kabir) এই ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ভয় ও আতঙ্ক। অনেকেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা এসে এই বোমাবাজির ঘটনা ঘটায়। তাঁদের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে, আর ভোটের আগে সেই উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে যুক্ত কিছু দুষ্কৃতী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
এই ঘটনার পরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। (Humayun Kabir) তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান সরাসরি অভিযোগ তোলেন হুমায়ুন কবীরের দলের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের ঘটনা পরিকল্পিত এবং ভোটের পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আবু তাহের খান বলেন, “এটা সম্পূর্ণভাবে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা। যাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বোমাবাজির ঘটনায় একজন মহিলা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের সময় ওই মহিলা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিলেন এবং আহত হন। যদিও তাঁর আঘাত কতটা গুরুতর, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।
এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দোষারোপের পালা আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে শাসক দল অভিযোগ করছে পরিকল্পিত অশান্তির, অন্যদিকে বিরোধীরা দাবি করছে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। নওদার এই ঘটনা ভোটের আবহে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভোটের আগের রাতে এমন বোমাবাজির অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পারে কিনা।

