নন্দীগ্রামে তৃণমূল নেতার উপর আক্রমণ, বিজেপিকে নিশানা শাসক শিবিরের

Sandeshkhali police attack
Chopra Man Alleges Police Beating in North Dinajpur

ভোটের একেবারে শেষ মুহূর্তে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম। বৃহস্পতিবার সকালে নন্দীগ্রামের (BJP) জেলেমারা এলাকার ৩৭ নম্বর বুথে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। ভেকুটিয়া ১ অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি রাখহরি ঘড়াকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয়েছে উত্তেজনা, এবং ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

আহত রাখহরি ঘড়ার অভিযোগ, তিনি ভোট (BJP) দিতে যাওয়ার সময় হঠাৎই কয়েকজন বিজেপি কর্মী তাকে ঘিরে ফেলে। তাঁর দাবি, কোনও প্ররোচনা ছাড়াই তাঁকে লক্ষ্য করে শুরু হয় মারধর। তিনি বলেন, “আমি শুধুমাত্র ভোট দিতে যাচ্ছিলাম। আচমকা কয়েকজন এসে আমাকে ঘিরে ধরে মারতে শুরু করে। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।” তাঁর কথায়, এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং তাঁকে ভোটদান থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় রাখহরি ঘড়াকে দ্রুত নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি এখনও পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

   

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানানো হয়েছে। শাসক দলের দাবি, ভোটের দিন পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ছড়িয়ে বিরোধীদের দমন করার চেষ্টা করছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেও এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে কোথাও না কোথাও নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। তবে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনা সম্পূর্ণ সাজানো। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাখহরি ঘড়া নিজেই বাড়ি থেকে লাঠি নিয়ে বেরিয়েছিলেন এবং এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছিলেন। বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষই তাকে বাধা দেয় এবং সেই সময়েই ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। তাদের মতে, এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে তৃণমূল।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, সেদিকে নজর রাখছে প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও পুরো ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কমিশন সূত্রে খবর, ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নন্দীগ্রাম বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতেও এখানে একাধিকবার রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ফলে এই নতুন ঘটনা আবারও সেই পুরনো উত্তেজনার স্মৃতি উসকে দিয়েছে। ভোটের দিন এমন ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায় বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।