
মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদ জেলায় বালি পাচারের একটি বড় চক্রকে ধ্বংস করেছে পুলিশ। (Murshidabad)অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে তিনজনকে। ধৃতরা হলেন তারাপুরের মো. মানিব আবদুল্লাহ শেখ, ইসলামপুরের মুকলেশ্বর রহমান ও মুজিবর রহমান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গা ও অন্যান্য নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা এবং পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বালিবোঝাই ট্রাক, বালি তোলার যন্ত্রপাতি এবং নগদ টাকা।
গতকাল রাতে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। তারাপুর ও ইসলামপুর এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে হাতেনাতে ধরা হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই চক্রটি এতটাই সক্রিয় ছিল যে রাতের অন্ধকারে ট্রাকের পর ট্রাক বালি নিয়ে চলে যেত। ফলে নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভাঙন বেড়েছে, চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। একজন স্থানীয় কৃষক বলেন, “প্রতি রাতে ট্রাকের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়।
আরও দেখুনঃ ভোট মিটতেই বড় কোপ! মহার্ঘ পেট্রল-ডিজেল, লিটার প্রতি কত টাকা বাড়ল দাম?
নদীর পাড় ঘেঁষে বাড়ি, কিন্তু প্রতি বর্ষায় ভয় লাগে কখন সব ভেসে যাবে।”পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের আরও অনেক সদস্যের নাম উঠে এসেছে। তদন্ত চলছে। এই চক্রটি শুধু বালি নয়, সীমান্ত এলাকায় কয়লা ও গবাদি পশু পাচারের সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মুর্শিদাবাদের বালি মাফিয়ারা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
আগেও বেশ কয়েকবার অভিযান হয়েছে, কিন্তু চক্রগুলো নতুন করে সংগঠিত হয়ে উঠছিল।এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আবারও কঠোর অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র জানিয়েছে, বালি, কয়লা ও গবাদি পশু পাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন, “এই অবৈধ কার্যকলাপ রাজ্যের সম্পদ লুট করছে এবং পরিবেশ ধ্বংস করছে। যে কোনো মূল্যে এর রুটে আঘাত করতে হবে।” তাঁর নির্দেশে জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের কথা বলা হয়েছে। রাতের টহল বাড়ানো হয়েছে, সন্দেহজনক ট্রাকগুলোকে থামিয়ে তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

