পেট্রল-ডিজেলের পর এবার দামি সিএনজি! অটোভাড়া বৃদ্ধির সিঁদুরে মেঘ কলকাতায়

India CNG Price Increase

নয়াদিল্লি ও কলকাতা: বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা আর পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা, এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে পিষ্ট ভারতের সাধারণ মানুষ। শুক্রবার সকালে পেট্রল ও ডিজেলের এককালীন বড়সড় মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সইতে না সইতেই আমজনতার উদ্বেগ বাড়িয়ে দাম বাড়ল সিএনজি-র (CNG)। হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে ভারতীয় নাগরিকদের দৈনন্দিন যাতায়াত খরচে। (India CNG Price Increase)

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সিএনজি-র দর

এদিন দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় প্রতি কেজি সিএনজি-র দাম এক ধাক্কায় ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। নয়া দর অনুযায়ী রাজধানীতে এই পরিবেশবান্ধব জ্বালানি বিকোচ্ছে ৭৯.০৯ টাকায়। মুম্বইয়ের বাজারও একই পথের পথিক। মহানগরে বর্তমানে দাম না বাড়লেও, প্রতিবেশী রাজ্যগুলির এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ তিলোত্তমার অটো ও ট্যাক্সি চালকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, কলকাতায় দাম বাড়লে অটো ইউনিয়নগুলি নতুন করে ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে সরব হতে পারে, যার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হবে সাধারণ যাত্রীদেরই।

   

কৃচ্ছ্রসাধনের বার্তার পরেই কোপ

উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশে ভাষণে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে ‘কৃচ্ছ্রসাধনের’ ডাক দিয়েছিলেন। বৈদেশিক মুদ্রাভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহার এবং ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর মতো বিকল্প পথে হাঁটার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আজ যে হারে গণপরিবহনের মূল জ্বালানি সিএনজি এবং ডিজ়েলের দাম বাড়ল, তাতে সাশ্রয়ের পথও কার্যত বন্ধ হতে বসেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এক নজরে জ্বালানি চিত্রের বর্তমান পরিস্থিতি

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির ঘোষণা অনুযায়ী, আজ থেকে কলকাতায় পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৩ টাকা বেড়েছে।

কলকাতা: পেট্রল ১০৮.৭৪ টাকা, ডিজেল ৯৫.১৩ টাকা।

নয়াদিল্লি: পেট্রল ৯৭.৭৭ টাকা, ডিজেল ৯০.৬৭ টাকা।

মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে ভারতের পক্ষে এই চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে ভোট মিটতেই তেলের এই লাগামহীন দাম বাড়ার ফলে এবার পণ্যবাহী লরির ভাড়া বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত বাজারে সবজি থেকে শুরু করে চাল-ডালের দামকেও উসকে দেবে। দিনের শেষে মুদ্রাস্ফীতির এই নয়া প্রকোপে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে।