কলকাতা: পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ক্রমশ সাঁড়াশি চাপ তৈরি করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। দীর্ঘ পাঁচ দফা সমন অগ্রাহ্য করার পর, শুক্রবার সাতসকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ। নির্বাচনের প্রচার এবং ব্যস্ততার অজুহাতে এর আগে বারবার তলব এড়ালেও, বিধানসভা ভোটের ফল বেরোতেই তদন্তের তেজ বাড়তে দেখে আর ঝুঁকি নেননি এই প্রভাবশালী নেতা। (ED Probe Rathin Ghosh Municipal Recruitment Scam)
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে মধ্যমগ্রামের বিধায়ক
অক্টোবর ২০২৩ থেকেই ইডি-র নজরে রয়েছেন রথীন ঘোষ। এর আগে তাঁর বাসভবনে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করেছিলেন আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত যে দুর্নীতির পাহাড় জমা হয়েছে, তার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে রথীনবাবুর। বিশেষ করে প্রোমোটার অয়ন শীলের ডেরা থেকে উদ্ধার হওয়া নথির সঙ্গে বিধায়কের যোগসূত্র খতিয়ে দেখতেই এই ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের আয়োজন।
পরপর গ্রেফতারিতে বিদ্ধ শাসকদল
রথীন ঘোষের এই হাজিরা নবান্নের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। কারণ, গত কয়েকদিন ধরে একের পর এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব শ্রীঘরে ঠাঁই নিয়েছেন।
সুজিত বসুর পতন: গত সোমবারই রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। দীর্ঘ টালবাহানার পর তাঁর বাড়িতে তল্লাশি এবং নথির ভিত্তিতে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
জালে পুলিশকর্তা: রথীন ঘোষের হাজিরার ঠিক একদিন আগে কলকাতা পুলিশের ডিসি তথা কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকেও গ্রেফতার করেছে ইডি।
নজরে অয়ন শীলের ডায়েরি
হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণে সিবিআই এবং ইডি যে যৌথ তদন্ত চালাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে দুর্নীতির জাল বহুদূর বিস্তৃত। তদন্তকারীদের মতে, অয়ন শীলের ডায়েরিতে থাকা সাংকেতিক তথ্য এবং আর্থিক লেনদেনের হিসেব মেলাতেই রথীন ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন ছিল। রথীনবাবুর দেওয়া বয়ান এই মামলায় নতুন কোনো ‘রাঘববোয়ালে’র হদিশ দেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




















