পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষে ভোট প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরলেন। বিশেষ করে আলুচাষিদের স্বার্থরক্ষা, রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজ এবং কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ তাঁর ভাষণে বিশেষ গুরুত্ব পায়। নির্বাচনী সভা থেকে তিনি যেমন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরেন, তেমনই কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিরও কড়া সমালোচনা করেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, খণ্ডঘোষ ও পূর্ব বর্ধমানের মতো কৃষিপ্রধান অঞ্চলে আলুচাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবিকা। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার আলুচাষিদের পাশে দাঁড়িয়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। সংরক্ষণ ব্যবস্থা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং বিপণনের সুযোগ বৃদ্ধি এই সব ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার কাজ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করা তাঁদের সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলায় এসে বারবার কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এই প্রসঙ্গ টেনে মমতা পাল্টা জবাব দেন।
তিনি বলেন, “তোমরা বলেছিলে বছরে ২ কোটি মানুষের চাকরি দেবে, কিন্তু বাস্তবে একটি চাকরিও দিতে পারোনি।” তাঁর আরও অভিযোগ, প্রতিরক্ষা ও রেল—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও শূন্যপদ পূরণ করা হয়নি। রেলে গ্যাংম্যানের মতো জরুরি পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে বলে তিনি দাবি করেন। কেন্দ্রীয় সরকারের এই ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তোমার ডিফেন্সে কটা লোক নিয়েছ?”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ২ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং বেকারত্বের হার প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বোঝাতে চান যে, রাজ্য সরকার বাস্তবিক উন্নয়ন করেছে এবং মানুষের পাশে রয়েছে।




















