নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার আইনি লড়াইয়ে এক নজিরবিহীন মোড়। আজ, বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রের খবর, এলএলবি (LLB) ডিগ্রিধারী মমতা আজ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের কাছে নিজেই নিজের মামলার সওয়াল করার অনুমতি চাইতে পারেন।
ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর নামে প্রবেশপত্র (Entry Pass) ইস্যু করা হয়েছে। তাঁর আইনি দল একটি অন্তর্বর্তী আবেদন দাখিল করে জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলার অন্যতম আবেদনকারী এবং রাজ্যের ‘গ্রাউন্ড রিয়েলিটি’ বা বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত। তাই আদালতের নিয়ম ও গরিমা বজায় রেখেই তিনি নিজের বক্তব্য সরাসরি বেঞ্চের সামনে তুলে ধরতে ইচ্ছুক।
নজরে আজকের শুনানি
আজ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চালির বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন এবং মূল মামলাকারী মোস্তারি বানুর আবেদনগুলিও আজ খতিয়ে দেখবে আদালত।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ১.২৫ কোটি ভোটার Mamata Banerjee Supreme Court SIR Case
পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চলা ভোটার তালিকার এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই সরব তৃণমূল কংগ্রেস। গত ১৯ জানুয়ারি শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, এই প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ হয় এবং সাধারণ ভোটাররা যেন হয়রানির শিকার না হন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ১.২৫ কোটি ভোটারের তথ্যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যুক্তিগত অসংগতি পাওয়া গিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে-২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে তথ্যের অমিল এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম অথবা ৫০ বছরের বেশি হওয়া।
গণতন্ত্র রক্ষার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর
গত কয়েকদিন ধরেই এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। গতকালই তিনি দিল্লিতে অভিযোগ করেন, “গণতন্ত্র রক্ষায় আমি প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়ছি।” এদিন তিনি তথাকথিত ‘ভুক্তভোগী’দের সংবাদমাধ্যমের সামনে এনে দেখান কীভাবে ভোটার তালিকায় গরমিল করা হচ্ছে।
গত ২৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে পক্ষ করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেছিলেন মমতা। আজকের শুনানিতে তিনি নিজে সওয়াল করার অনুমতি পেলে তা ভারতীয় বিচারবিভাগের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হয়ে থাকবে। এখন দেখার, শীর্ষ আদালত মুখ্যমন্ত্রীর এই আবেদনে সাড়া দেয় কি না এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের এই জটিল প্রক্রিয়ায় নতুন কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় কি না।




















