ময়নাগুড়ি: একলপ্তে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দেওয়া, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়ে এবার সরাসরি তোপ দাগলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপির কথাতেই কমিশন বেছে বেছে রাজ্যের দক্ষ অফিসারদের সরিয়ে দিচ্ছে। তবে মমতার হুঁশিয়ারি, “বিজেপি আর কমিশন জোট বেঁধে আমার সব কেড়ে নিয়েছে। গ্যাস থেকে পেট্রোলের দাম বাড়িয়েছে। আমার হাতে কিছু নেই। তবে আমার কাছে মানুষ আছে৷’’
‘বঙ্গভঙ্গের চক্রান্ত করছে কেন্দ্র’
এদিন মুখ্যমন্ত্রী একটি অত্যন্ত বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গকে ভেঙে বিহারের সঙ্গে যুক্ত করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে কেন্দ্র। বিজেপিকে ‘বসন্তের কোকিল’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ভোটের আগে এরা বড় বড় কথা বললেও কাজের সময় দেখা মেলে না। উল্টে তৃণমূলের প্রার্থীদের গাছে বেঁধে মারার হুমকি দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। মমতার কথায়, “বিজেপি মানুষকে মারে, আর তৃণমূল মানুষের প্রাণ বাঁচায়।”
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও জ্বালানি সংকট নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ
এদিনের সভা থেকে মা-বোনেদের আশ্বস্ত করে মমতা বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চিরকাল চলবে, কেউ তা বন্ধ করতে পারবে না।” পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে দেশে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও সরব হন তিনি। রান্নার গ্যাসের (LPG) বুকিংয়ের সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়ার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেন্দ্র সাধারণ মানুষকে ভাতে মারার চেষ্টা করছে। এর পাল্টা হিসেবে রাজ্য সরকার কেরোসিনের বরাদ্দ বাড়িয়েছে বলে জানান তিনি।
‘বাংলাকে অপমান সহ্য করব না’
বিজেপি বারবার বাংলা ভাষাকে অপমান করছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি মনে করিয়ে দেন, মানুষের অধিকারের জন্য তিনি রাস্তা থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই করেছেন এবং এই লড়াইয়ের কৃতিত্ব তাঁর নয়, বরং সাধারণ মানুষের। ভোটারদের প্রতি তাঁর আবেদন, “বিজেপি টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চাইলেও, ভোটটা তৃণমূলকেই দেবেন।”
ভোটের আগে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে কমিশনকে বিঁধে মমতা বুঝিয়ে দিলেন, এবারের লড়াইয়ে তাঁর প্রধান অস্ত্র আমলাতন্ত্র নয়, বরং মানুষের আবেগ ও জনসমর্থন।




















