ছত্তিশগড়: বাস্তারের ঘন জঙ্গলে দীর্ঘদিন ধরে যে অন্ধকার ছায়া পড়েছিল, তা আজ অনেকটাই কেটে যাচ্ছে। (Pappa Rao)ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় মাওবাদীদের শেষ বড় নেতাদের একজন, পাপ্পা রাও (যিনি মাঙ্গু দাদা বা সুন্নাম চন্দ্রাইয়া নামেও পরিচিত) মঙ্গলবার তাঁর ১৭ সঙ্গীসহ অস্ত্র সমর্পণ করেছেন। পাপ্পা রাও দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর ধরে দণ্ডকারণ্য বিশেষ জোনাল কমিটির সদস্য এবং ওয়েস্ট বস্তার ডিভিশনের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ২০১০ সালের তাদমেতলা হামলার মতো ভয়াবহ ঘটনা, যেখানে ৭৬ জন জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন।
ছত্তিশগড় পুলিশের তথ্য অনুসারে, তাঁর মাথার দাম ছিল ২৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে বিজাপুরের কুত্রু থানায় এসে তিনি নিজের এবং সঙ্গীদের অস্ত্র সমর্পণ করেন। সঙ্গে ছিলেন ১৭ জন সদস্য পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে। উদ্ধার হয়েছে আটটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি এসএলআর এবং একটি ইনসাস রাইফেলসহ অন্যান্য অস্ত্র।অস্ত্র ছেড়ে দেওয়ার পর পাপ্পা রাও স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “ভারতের সংবিধান অনুসারে আমরা মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করব জলের জন্য, জমির জন্য।
আরও দেখুনঃ‘ওরা সব কেড়ে নিয়েছে! আমার কাছে শুধু মানুষ আছে’, ময়নাগুড়ি থেকে হুঙ্কার মমতার
এখন থেকে আমি অস্ত্র ত্যাগ করে সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই কাজ করব।” এই কথাগুলো শুনে অনেকে আশা করছেন যে, বছরের পর বছর ধরে চলা হিংসার পথ ছেড়ে এবার সাধারণ জীবনে ফিরে আসার সময় হয়েছে।ছত্তিশগড়ের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজয় শর্মা এই ঘটনাকে বড় সাফল্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ৩১ মার্চের মধ্যে বাস্তার থেকে মাওবাদীমুক্ত ঘোষণার লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে রাজ্য।
পাপ্পা রাওয়ের দলের মোট ২১ জন সদস্যের মধ্যে ১২ থেকে ১৪ জন অস্ত্রসহ সমর্পণ করেছেন। এর আগে মাদভি হিদমার মতো শীর্ষ নেতাদের নির্মূল বা সমর্পণের পর পাপ্পা রাও ছিলেন বস্তারের শেষ বড় স্তম্ভ। তাঁর আত্মসমর্পণের ফলে সেখানকার মাওবাদী নেটওয়ার্ক প্রায় শেষের পথেই বলে মনে করা হচ্ছে।



