চালসায় ‘দিদি’, পাথরপ্রতিমায় ‘সেনাপতি’! আজ থেকেই বঙ্গে তৃণমূলের ম্যারাথন প্রচারের শঙ্খনাদ

কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা মহাযুদ্ধের দামামা বেজে গিয়েছে। আর সেই লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করতে আজ, মঙ্গলবার থেকেই কোমর বেঁধে নামছে ঘাসফুল শিবির। একদিকে উত্তরবঙ্গের পাহাড়-তরাইয়ের আবেগ…

Mamata and Abhishek election campaign

কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা মহাযুদ্ধের দামামা বেজে গিয়েছে। আর সেই লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করতে আজ, মঙ্গলবার থেকেই কোমর বেঁধে নামছে ঘাসফুল শিবির। একদিকে উত্তরবঙ্গের পাহাড়-তরাইয়ের আবেগ ছুঁতে হিমালয়ের কোলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে নিজের গড় দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে রণহুঙ্কার দেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক মাস ব্যাপী এই ম্যারাথন প্রচারই ঠিক করে দেবে নবান্নের পরবর্তী অধিপতি কে?

উত্তরবঙ্গেই শুরু ‘চতুর্থ’ অভিযানের লড়াই

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে উত্তরবঙ্গ সব সময়ই ‘পয়মন্ত’। তাই জয়ের হ্যাটট্রিকের পর চতুর্থবার সরকার গড়ার লক্ষ্য পূরণে তিনি বেছে নিয়েছেন তিস্তা-তোর্সা-মহানন্দার পাড়কেই। আজ চালসায় পা রাখছেন তৃণমূল নেত্রী। তবে প্রথাগত জনসভা নয়, জনসংযোগের শুরুটা হচ্ছে মানবিক ছোঁয়ায়। বিকেলে মেটেলির জ্যোতি আশ্রম ক্যাথলিক চার্চে গিয়ে প্রান্তিক মানুষের আশীর্বাদ নেবেন তিনি। কথা বলবেন চার্চের ফাদারদের সঙ্গে।

   

নাগরাকাটার প্রার্থী সঞ্জয় কুজুরের কথায়, “নেত্রী সব ধর্মকে সম্মান করেন, তাই প্রচারের আগে তিনি এই পবিত্র আশ্রমে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।” বুধবার ময়নাগুড়িতে বড়সড় জনসভার মাধ্যমে তিনি উত্তরবঙ্গ জয়ের বার্তা দেবেন। যদিও বিগত দিনে উত্তরবঙ্গ তৃণমূলকে সেভাবে দু-হাত ভরে ভোট দেয়নি, তবুও প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রাজনৈতিক সংকট, সব সময় পাহাড় ও সমতলের মানুষের পাশে থেকেছেন মমতাই। এবার সেই আস্থার ওপর ভর করেই বাজিমাত করতে চান তিনি।

সাগরের কোল থেকে হুঙ্কার অভিষেকের Mamata and Abhishek election campaign

মমতা যখন উত্তরে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তখন দক্ষিণে। আজ দুপুরে পাথরপ্রতিমা কলেজ মাঠের জনসভা দিয়ে নিজের প্রচার সূচি শুরু করছেন তিনি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা বরাবরই তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ, আর সেই দুর্গ থেকেই জয়ের সংকল্প নিয়ে মেদিনীপুর ও নন্দীগ্রামের দিকে এগোবেন তিনি। আগামী এক মাস উত্তর ও দক্ষিণ, দুই বঙ্গেই তাঁর ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে।

লড়াই কি কেবল বিজেপির সঙ্গে?

এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের লড়াইটা কেবল গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে নয়। রাজভবন থেকে নির্বাচন কমিশন, সর্বত্রই সংঘাতের বাতাবরণ। বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। প্রচারের মঞ্চে কমিশনের ‘একপেশে’ আচরণ এবং কেন্দ্রের ‘আর্থিক বঞ্চনা’কে হাতিয়ার করেই মানুষের দুয়ারে যাবেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

নজরে প্রথম দফার ১৫২ আসন

আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট। জঙ্গলমহল থেকে উত্তরবঙ্গ, মোট ১৫২টি আসনে ঘাসফুল ফোটাতে মরিয়া জোড়াফুল শিবির। উন্নয়নের খতিয়ান হাতে নিয়ে একদিকে মমতা, অন্যদিকে যুবশক্তির জয়গান গেয়ে অভিষেক- এই দুইয়ের যুগলবন্দিতেই এবার বাংলার মন জয় করতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস।