“তোরা ঘর সামলাস, আমি বাংলা জিতব!” মমতার নির্দেশ পেতেই ভবানীপুরে প্রচারে ফিরহাদ

কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সবথেকে ‘হাই-ভোল্টেজ’ লড়াইয়ের সাক্ষী থাকতে চলেছে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্র। একদিকে ঘরের মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী,…

firhad hakim campaign in bhabanipur

কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সবথেকে ‘হাই-ভোল্টেজ’ লড়াইয়ের সাক্ষী থাকতে চলেছে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্র। একদিকে ঘরের মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর টক্করে সরগরম রাজনীতি। তবে নেত্রী যখন গোটা বাংলা জয়ের অভিযানে ব্যস্ত, তখন তাঁর নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্র ‘ভবানীপুর’ আগলে রাখার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন তাঁর বিশ্বস্ত সেনাপতিরা।

“আমি বাংলা দৌড়াচ্ছি, তোরা ঘর সামলাস”

রবিবার ভবানীপুরের কর্মিসভা থেকে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই তিনি প্রধান মুখ এবং তাঁকে সারা বাংলা চষে বেড়াতে হবে। তাই নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরের দায়িত্ব তিনি ছেড়ে দিয়েছেন স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের ওপর। নেত্রীর এই নির্দেশ পাওয়া মাত্রই সোমবার সকাল থেকে কোমর বেঁধে প্রচারে নেমে পড়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

   

চেতলার অলিতে-গলিতে ফিরহাদ ও প্রিয়দর্শিনী firhad hakim campaign in bhabanipur

সোমবার সকাল থেকেই চেতলা ও আলিপুর সংলগ্ন এলাকায় জনসংযোগে বেরোন ফিরহাদ হাকিম। সঙ্গে ছিলেন তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিমও। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের আশীর্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গত কয়েক বছরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন তাঁরা। ফিরহাদ হাকিম এদিন আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “ভবানীপুরের মানুষ মমতাদিকে ঘরের মেয়ে হিসেবেই দেখেন। তিনি এখানে জন্মেছেন, বড় হয়েছেন। এখানকার কয়েকশো মানুষ তাঁর ছোটবেলার বন্ধু। তাই আলাদা করে বলার কিছু নেই, মানুষ নিজের ঘরের মেয়েকেই ভোট দেবেন।”

শুভেন্দু বনাম মমতা: লড়াই এবার প্রেস্টিজ ফাইট

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলের নজর এখন ভবানীপুরের দিকে। শুভেন্দু ইতিমধ্যেই নেত্রীকে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তবে এই চ্যালেঞ্জকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল শিবির। ফিরহাদ হাকিমের কথায়, “শুভেন্দু অধিকারী এখানে কোনো ফ্যাক্টরই নন। তৃণমূলের কর্মীরা সারা বছর মানুষের পাশে থাকেন। মানুষ মমতাদিকেই সমর্থন করবেন।”

অভিষেকের বার্তা: চাই রেকর্ড ব্যবধানে জয়

দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভবানীপুর নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। গতবারের চেয়েও অনেক বেশি ব্যবধানে নেত্রীকে জেতানোর লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছেন তিনি। সেই লক্ষ্য পূরণে এখন থেকেই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ছোট ছোট সভা ও দেওয়াল লিখনে জোর দিচ্ছে জোড়াফুল শিবির।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিশ্বস্ত সৈনিক’ হিসেবে ফিরহাদ হাকিম ও তাঁর টিম এখন থেকেই ভবানীপুরের অলিগলি চষে ফেলতে শুরু করেছেন। নেত্রী যখন বাংলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভোটপ্রচারে ব্যস্ত থাকবেন, তখন তাঁর ‘নিজের ঘর’ সুরক্ষিত রাখাই এখন দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূলের প্রধান লক্ষ্য।