ভারত-মায়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা অভিযান! আটক ১০ জঙ্গি

india-myanmar-border-prepak-militants-arrested-manipur-tengnoupal

মণিপুর: মণিপুরের সীমান্ত এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন প্রেপাক (militants arrested)-এর ১০ জন সক্রিয় ক্যাডারকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এদের মধ্যে পাঁচজন নাবালক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারত-মায়ানমার সীমান্তের কাছে তেঙ্গনৌপাল জেলার মোরেহ থানার আওতাধীন এলাকায়, সীমান্ত স্তম্ভ ৭৭ থেকে ৮২-এর মধ্যবর্তী অঞ্চলে।সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬-এ পরিচালিত একটি যৌথ অভিযানে এদের গ্রেফতার করা হয়।

মণিপুর পুলিশের অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সীমান্তের এই সংবেদনশীল অংশে তল্লাশি চালিয়ে এই দশজনকে আটক করে। গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের মধ্যে বিষ্ণুপুর, কাকচিং, ইম্ফল ওয়েস্ট ও ইম্ফল ইস্ট জেলার বাসিন্দা রয়েছে। তাদের বয়স এবং পরিচয় যাচাই করে দেখা গেছে যে পাঁচজনই নাবালক, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে।

   

আরও দেখুনঃ “তোরা ঘর সামলাস, আমি বাংলা জিতব!” মমতার নির্দেশ পেতেই ভবানীপুরে প্রচারে ফিরহাদ

প্রেপাক (রেভল্যুশনারি পিপলস অফ কাঙ্গলেইপাক-রিভল্যুশনারি আর্মি) একটি নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন, যা মণিপুরের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এই সংগঠনের সদস্যরা সীমান্তের ওপার থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে আসছে। মায়ানমারের অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে অনেক সশস্ত্র গোষ্ঠী এই সীমান্ত পথ ব্যবহার করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর এই অভিযানকে অনেকে সফল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।গ্রেফতারের পর নাবালকদের জুভেনাইল
জাস্টিস অ্যাক্ট অনুযায়ী বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে। বাকি প্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র বা বিস্ফোরক উদ্ধারের খবর এখনও পাওয়া যায়নি, তবে তদন্ত চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ, সম্ভাব্য পরিকল্পনা এবং সীমান্ত পারাপারের রুট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

মণিপুরে গত কয়েক বছর ধরে জাতিগত উত্তেজনা ও সশস্ত্র সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি অস্থির রয়েছে। কাঙ্গলেই ও মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাতের পাশাপাশি বিভিন্ন নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর কার্যকলাপও বেড়েছে। এর মধ্যে প্রেপাক, ইউএনএলএফ, কেসিপি, কেকেওয়াইএল-এর মতো সংগঠনগুলো সক্রিয়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একাধিক অভিযানে ২৬ জনেরও বেশি ক্যাডারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে যে নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্ত এবং অভ্যন্তরীণ এলাকায় একযোগে কাজ করে চলেছে।তেঙ্গনৌপাল জেলার মোরেহ এলাকা ভারত-মায়ানমার সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত পয়েন্ট। এখান দিয়ে অনেক সময় চোরাচালান, অস্ত্র পাচার এবং মানুষের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটে। সীমান্ত স্তম্ভ ৭৭ থেকে ৮২ পর্যন্ত এলাকাটি ঘন জঙ্গলময় এবং দুর্গম। এমন ভূখণ্ডে অভিযান চালানো নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু তারা সফলভাবে তা সম্পন্ন করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই ধরনের অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি বাড়ায়, তবে একই সঙ্গে নাবালকদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।