পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম-২ ব্লকের একটি গ্রামে ঘটে গেল এক উদ্বেগজনক ঘটনা (Ketugram)। স্থানীয় যুবক মিন্টু মোল্লা এক নাবালিকা হিন্দু মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাকে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। স্থানীয় হিন্দু যুবক ও হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা তৎপর হয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে ওই হিন্দু মেয়েটিকে ভারতে বা ভারতের বাইরে পাচার করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ওই মিন্টু মোল্লা।
আরও দেখুনঃ পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলা: স্ত্রী-পুত্রের পর এবার ইডির দফতরে মদন মিত্র
ঘটনার বিবরণ অনুসারে, মিন্টু মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে ওই নাবালিকার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি মেয়েটিকে প্রেমের জালে আটকে রেখে তার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। গতকাল বিকেলের দিকে তিনি মেয়েটিকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় যুবকরা তাদের পথ আটকে দেন। হিন্দু সংগঠনের কর্মীরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান।
তাদের সক্রিয়তায় মেয়েটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। মিন্টু মোল্লাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।নাবালিকার পরিবারের সদস্যরা এখনও আতঙ্কে রয়েছেন। মেয়েটির বাবা জানান, “আমরা কখনও ভাবিনি যে এমন কিছু ঘটতে পারে। মেয়েটা এখনও পড়াশোনা করে, তার সামনে অনেক স্বপ্ন। কিন্তু এই ধরনের প্রলোভন তার জীবনটা নষ্ট করে দিতে পারত এবং মেয়েটিকে পাচার করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
আরও দেখুনঃ ‘নোটিস না দিয়েই ভাঙচুর!’ আমতলায় অভিষেকের অফিস ভাঙায় স্থগিতাদেশ
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই ঘটনা একা নয়। কেতুগ্রাম-২ ব্লক সহ আশেপাশের এলাকায় গত কয়েক বছরে অনুরূপ বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই ‘লাভ জিহাদ’ শব্দটি ব্যবহার করে বলছেন যে, ধর্মীয় পরিচয় লুকিয়ে নাবালিকা ও তরুণীদের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় হিন্দু সংগঠনের এক নেতা বলেন, “আমরা শুধু মেয়েটিকে উদ্ধার করিনি, সমাজকে সতর্ক করতে চাই। প্রশাসনকে এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। নাবালিকাদের নিরাপত্তা সবার আগে।”পুলিশ ইতিমধ্যে মিন্টু মোল্লাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
কেতুগ্রাম থানার এক অফিসার জানান, “ঘটনার তদন্ত চলছে। নাবালিকার বয়স, তার সঙ্গে অভিযুক্তের যোগাযোগের প্রমাণ ও অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে পুলিশ এখনও এটিকে ‘লাভ জিহাদ’ বলে স্বীকার করেনি, বরং সাধারণ অপহরণ ও নাবালিকাপাচারের মামলা হিসেবে দেখছে।
আরও দেখুনঃ সাতসকালে পুলিশের বাজেয়াপ্ত করা বাজিতে আগুন ধরে বারাসাতে জোর ধামাকা





