ভোটের আগেই মাঠ ছাড়লেন ‘পুষ্পা’! ফলতায় লড়াই থেকে পিছু হটলেন জাহাঙ্গীর

ফলতা: ২১ মে-র হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক মুখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে বিরাট চমক! ভোটযুদ্ধের ময়দান থেকে নাটকীয়ভাবে সরে দাঁড়ালেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা জঙ্গলমহল…

Jahangir Khan Election Withdrawal

ফলতা: ২১ মে-র হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক মুখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে বিরাট চমক! ভোটযুদ্ধের ময়দান থেকে নাটকীয়ভাবে সরে দাঁড়ালেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা জঙ্গলমহল ও ফলতার রাজনীতির পরিচিত মুখ জাহাঙ্গীর খান৷ ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে তাঁর এই লড়াই ছেড়ে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলার রাজনৈতিক অন্দরে। (Jahangir Khan Election Withdrawal)

ছাব্বিশের ভোটের উত্তেজনার মাঝে হুঙ্কার দিয়েছিলেন, উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা আইপিএস অফিসারকে সামনে দেখে বুক চিতিয়ে বলেছিলেন, ‘পুষ্পা ঝুকেগা নেহি!’ কিন্তু ভোটের ময়দানে সেই ‘দাপুটে’ ইমেজ কি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল? ২১ মে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতায় পুনর্নির্বাচন। আর তার ঠিক আগে আচমকাই সুর নরম করে লড়াইয়ের ময়দান থেকে পুরোপুরি পিছু হটে গেলেন তৃণমূলের সেই বিতর্কিত মুখ জাহাঙ্গীর খান। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে নিজেই ঘোষণা করলেন, আসন্ন ভোটে তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না!

   

সোনার ফলতার তত্ত্ব, নাকি হারের ভয়?

এদিন এক নাটকীয় সাংবাদিক বৈঠক করে জাহাঙ্গীর বলেন, “ফলতার উন্নয়নের জন্য, ফলতার সাধারণ মানুষের স্বার্থের জন্য আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম।” কিন্তু রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ফলতাকে যদি ‘সোনার ফলতা’ বানাতেই হয়, তবে ময়দান ছেড়ে এভাবে পালিয়ে যাওয়া কেন? তবে কি পুনর্নির্বাচনে নিশ্চিত হার আঁচ করতে পেরেই এই সিদ্ধান্ত? নাকি এর পেছনে রয়েছে শাসকদলের অন্য কোনও গোপন রাজনৈতিক চাল? যদিও এই সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের নাকি দলের ওপরমহলের চাপে নেওয়া— সাংবাদিকদের সেই প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর দেননি জাহাঙ্গীর।

অভিযোগ অস্বীকার, কিন্তু মুখে কুলুপ

প্রথম দফার ভোটের দিন জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ভোটারদের হেনস্থা করা, আতর ছড়ানো এবং ইভিএম-এ টেপ লাগিয়ে দেওয়ার মতো একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেও, কে বা কারা আসলে এই কাজ করেছে, তা নিয়ে মুখ খোলেননি তিনি।

যে ‘পুষ্পা’ কদিন আগেও খোদ পুলিশ প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় পুনর্নির্বাচন ঘোষণা হতেই তাঁর এই ‘শান্তি ও উন্নয়নের’ দোহাই দিয়ে মাঠ ছাড়াকে চরম আত্মসমর্পণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। জাহাঙ্গীরের এই নাটকীয় পলায়ন এখন ফলতার ভোট সমীকরণ কোন দিকে ঘোরায়, সেটাই দেখার।