
ঢাকা: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশ থেকে ফের উস্কানিমূলক মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় (Enayetullah Abbasi)। বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এমন একটি বক্তব্য দিয়েছেন, যা দুই দেশের সম্পর্ক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানরা যদি নিরাপদে না থাকেন, তাহলে বাংলাদেশেও হিন্দুরা নিরাপদে থাকতে পারবেন না।
তাঁর এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকে এটিকে প্রতিশোধমূলক উস্কানি হিসেবে দেখছেন, যা দুই দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে পারে।এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বাংলাদেশে বড় বড় জনসভায় বক্তৃতা দিয়ে পরিচিত। তাঁর বক্তব্য প্রায়ই ধর্মীয় অনুভূতি জাগানোর জন্য পরিচিত, কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এতে উগ্রতা ও বিদ্বেষের উপাদান থাকে।
আরও দেখুনঃ নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর মন্ত্রিসভায় কে কোন দায়িত্বে
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বড় জয়ের পর তিনি দাবি করেন, সেখানে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে তার প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পড়বে।এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশ তাঁকে সমর্থন করে বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো স্বাভাবিক।
অন্য অংশ মনে করেন, এ ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্বেষ বাড়াবে এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। বিশেষ করে বাংলাদেশে ইতিমধ্যে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর এই ধরনের বক্তব্য আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মোড় নিতে পারে।
শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আব্বাসীর মতো বক্তাদের উস্কানিমূলক বক্তব্য আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বাংলাদেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও শান্তিকামী নাগরিকরা এ ধরনের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন।
তাঁরা বলছেন, ধর্মের নামে কোনো সম্প্রদায়কে হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দুই দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে দায়িত্বশীল বক্তৃতা জরুরি।এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর আগের বক্তব্যগুলোও বিতর্কিত। তিনি বিভিন্ন সময়ে উগ্র বক্তব্যের জন্য সমালোচিত হয়েছেন। তাঁর সমর্থকরা অবশ্য বলেন, তিনি ধর্মীয় অধিকার রক্ষার কথা বলেন। কিন্তু সমালোচকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য সাম্প্রদায়িক বিভেদকে উস্কে দেয় এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

