কলকাতা: ভোটের মুখে কি এবার রাজনীতির ভরকেন্দ্র বদলে যাচ্ছে ক্যাম্পাসের হস্টেলগুলোতে? নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক এক নির্দেশে এমন জল্পনাই তুঙ্গে। আগামী বুধবারের হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের আগে নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে কলকাতা ও শহরতলির ৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হস্টেল ও আবাসে ‘সুপার চেকিং’-এর ফরমান জারি করেছে কমিশন। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে যাদবপুর ও আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।
কেন এই চিরুনি তল্লাশি?
কমিশন সূত্রে খবর, গোপন গোয়েন্দা রিপোর্টে জানা গিয়েছে যে ভোটের দিন উত্তাপ বাড়াতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলোতে ‘বহিরাগত’দের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এই বহিরাগতরা ভোটের দিন বুথে বুথে অশান্তি ছড়াতে পারে বলেই কমিশনের আশঙ্কা। বিশেষ করে রাজারহাট, নিউ টাউন এবং পার্ক সার্কাস এলাকায় আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এবং যাদবপুরের আবাসিক এলাকাগুলোতে কড়া স্ক্যানার বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় আর কারা? Election Commission checks university hostels
শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে শুরু করে শহরতলি, কমিশনের নজরদারি থেকে বাদ যাচ্ছে না কেউই-
উত্তর কলকাতা ও সল্টলেক: বেলগাছিয়া ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ও যুবভারতীর যুব আবাস।
কল্যাণী: বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
অন্যান্য: তেঘরিয়া ও নিউ টাউনের হজ হাউসগুলোকেও এই বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।
প্রতিবাদ ও রাজনীতির রঙ
কমিশনের এই সক্রিয়তাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবেই দেখছে শিক্ষা মহল। গত কয়েক দিন ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘দেশবিরোধী’ তকমা বনাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা আক্রমণের লড়াইয়ে সরগরম ছিল রাজপথ। সেই রেশ টেনেই যাদবপুরের ছাত্রনেতা ইন্দ্রানুজ রায়ের দাবি, “প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সুরেই সুর মেলাচ্ছে কমিশন।” অন্যদিকে, শিক্ষক মহলের আশঙ্কা, এই ‘সুপার চেকিং’-এর নামে আসলে ক্যাম্পাসের স্বাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
আবাসিকদের যাতায়াতে কোনও কঠোর বিধিনিষেধ জারি হবে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থাকলেও আজ সোমবার থেকেই ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে দানা বাঁধছে বিক্ষোভের মেঘ। আবহাওয়া এবং রাজনীতি, দুইয়ের উত্তাপেই এখন ফুটছে কলকাতা।
আরও পড়ুন- ছাপ্পা দিলেই সোজা শ্রীঘর! ভুয়ো ভোট রুখতে কমিশনের কড়া দাওয়াই




















