ছাপ্পা দিলেই সোজা শ্রীঘর! ভুয়ো ভোট রুখতে কমিশনের কড়া দাওয়াই

ভোটের আগে ভুয়ো ভোটার ঠেকাতে কড়া নজরদারি। গ্রেফতারি, যাচাই ও তালিকা সংশোধনে সক্রিয় নির্বাচন কমিশন, বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক।

Falta SIR Controversy Deepens Amid Duplicate Voter Name Claims Against Jahangir Khan

কলকাতা: বাংলায় দ্বিতীয় দফার মহারণ শুরু হতে আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি। তার আগেই ভোটলুটেরাদের কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ দিন ধরেই বিরোধীদের অভিযোগ ছিল যে, বুথে ভুয়া ভোটারের দাপটে আসল ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না। এবার সেই ‘অসুখ’ সারিয়ে তুলতে কড়া দাওয়াই দিচ্ছে কমিশন। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ছাপ্পা ভোট দিলে বা ভুয়ো পরিচয় দিয়ে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলে সরাসরি এক বছরের শ্রীঘর হতে পারে।

ভুয়ো ভোটার রুখতে ‘ত্র্যহস্পর্শ’ ফিল্টার

এবার সরাসরি ভোটারের লাইনে গিয়ে দাঁড়ানো যাবে না। তার আগে পেরোতে হবে কয়েকটি কড়া পরীক্ষা:

   
  • BLO-র নজরদারি: বিএলও (BLO) এবং তাঁর সহকারী ভোটারের সিরিয়াল নম্বর ও পার্ট নম্বর নিখুঁতভাবে মিলিয়ে দেখবেন।
  • পরিচয়পত্র যাচাই: ভোটারের পরিচয়পত্র (Voter ID বা অন্য বৈধ নথি) দু’বার যাচাই করা হবে।
  • আঙুলের কালি পরীক্ষা: ভোটারের আঙুলে আগে থেকেই কালি লেগে আছে কি না বা কোনও রাসায়নিক ব্যবহার করে কালি মোছার চেষ্টা হয়েছে কি না, তা গভীরভাবে পরীক্ষা করা হবে। এই সব ‘ছাঁকনি’ পার করার পরেই লাইনে দাঁড়ানোর অনুমতি মিলবে।

ডিজিটাল পাহারায় ১০০% বুথ Fake Voter Crackdown West Bengal

কমিশন সূত্রে খবর, এবার রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভার প্রতিটিতেই ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ বুথের ভিতরের প্রতিটি মুহূর্তের সরাসরি সম্প্রচার হবে নির্বাচন কমিশনের কন্ট্রোল রুমে। কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি চোখে পড়লেই সেখানে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী তৎক্ষণাৎ অভিযুক্তকে চিহ্নিত করবে। ছাপ্পা দেওয়ার প্রমাণ মিললে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (আগের IPC) অনুযায়ী এক বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।

ভোটারদের জন্য একগুচ্ছ সুবিধা

২০২৬-এর এই নির্বাচনে ভোটারদের জন্য কিছু বিশেষ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাও করেছে কমিশন-

নিচতলায় বুথ: বয়স্ক এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি বুথ একতলায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

টয়লেট ও শৌচাগার: প্রতিটি বুথেই পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সিসিটিভি ও নজরদারি: প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বা ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে কড়া নজরদারি চলবে।

উল্লেখ্য, প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। সেই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে ২৯ তারিখের ১৪২টি আসনেও অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন: নির্বাচনী আবহে কাশিপুর বোমা উদ্ধার মামলা গেল এনআইএ হাতে