
মালদা: মালদার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বুধবার, যখন প্রয়াত হলেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী, যিনি রাজনৈতিক মহলে “ডালু” নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেস রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই অভিজ্ঞ নেতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে একাধিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মালদার সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন।
প্রয়াত দাদা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গনিখান চৌধুরীর মাজারের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। পারিবারিক ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে একসূত্রে বেঁধে রেখে একই স্থানে দুই ভাইয়ের শেষ শয্যা রাজনৈতিক ও আবেগের এক অনন্য মিলন ঘটিয়েছে। শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পুত্র ইশা খান চৌধুরী সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পাশাপাশি কংগ্রেসের অসংখ্য কর্মী-সমর্থকও এই শেষ যাত্রায় অংশ নেন এবং আবেগঘন পরিবেশে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান।
ডালুর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা মালদা জেলায়। কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি শুধু দলীয় নেতা হিসেবেই নয়, একজন জনপ্রিয় জননেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় স্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।
তাঁর মৃত্যুর পর জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব বৃহস্পতিবার সমস্ত নির্বাচনী প্রচার ও দলীয় কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। দলীয় সূত্রে জানানো হয়, এটি শুধুমাত্র একজন নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি। বিভিন্ন জায়গায় দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং কর্মীরা নীরব শোক পালন করেন।

