বাংলায় কয়লা সিন্ডিকেট চক্রে ৬৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি! দাবি ইডির

coal-syndicate-case-ed-chargesheet-650-crore

কলকাতা: কয়লা সিন্ডিকেট কাণ্ডে তদন্ত আরও জোরদার করলএনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। (coal syndicate)কলকাতা আঞ্চলিক দফতর এবার মামলার তদন্তের অগ্রগতিতে বড় পদক্ষেপ নিয়ে কলকাতার বিশেষ পিএমএলএ আদালতে অভিযোজন অভিযোগ (প্রসিকিউশন কমপ্লেইন্ট) দায়ের করেছে। এই অভিযোগে নাম রয়েছে চিন্ময় মণ্ডল, কিরণ খান-সহ মোট পাঁচজন অভিযুক্তের।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পাঁচজনকেই গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অবৈধ কয়লা খনন, চুরি, বেআইনি পরিবহণ, বিক্রি এবং তোলাবাজির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ উপার্জন করা হয়েছে। এই অর্থই পরে বিভিন্ন পথে সাদা করার চেষ্টা হয়েছে, যা মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় পড়ে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। সেই তল্লাশিতে উদ্ধার হয় প্রায় ১৭.৫৭ কোটি টাকার নগদ অর্থ, একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ। এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্র্যাকটিস সেশনে সুনীল ছেত্রী

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এখন পর্যন্ত এই মামলায় চিহ্নিত অপরাধলব্ধ আয়ের পরিমাণ ৬৫০ কোটিরও বেশি বলে দাবি করেছে ইডি। যা থেকে বোঝা যাচ্ছে, এই চক্রটি কতটা বড় আকারে কাজ করছিল। তদন্তকারীদের মতে, এটি কোনও ছোটখাটো চক্র নয়, বরং সুসংগঠিত একটি নেটওয়ার্ক, যা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

ইডির অভিযোগ, কয়লা খনি অঞ্চল থেকে বেআইনি ভাবে কয়লা তুলে তা চোরাপথে বাজারে বিক্রি করা হত। এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল একাধিক ব্যক্তি এবং মধ্যস্বত্বভোগী। তদন্তের সূত্র ধরে গ্রেফতার করা হয়েছে আইপ্যাক সংস্থার ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকেও। ভিনেশকে গ্রেফতার করে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের স্ত্রী এবং ভাইকে ইডি তলব করেছে। শুধু তাই নয়, এই ব্যবসা চালাতে স্থানীয় স্তরে তোলাবাজিও চলত বলে অভিযোগ। এই মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগসূত্রের কথাও উঠে এসেছে, যদিও তা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে। ইডি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও বড়সড় গ্রেফতার হতে পারে এবং এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন বা পিএমএলএ-এর অধীনে এই ধরনের মামলায় সাজা হলে তা অত্যন্ত কঠোর হতে পারে। অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ কারাদণ্ডের সম্ভাবনাও থাকে। সব মিলিয়ে, কয়লা সিন্ডিকেট মামলায় ইডির এই পদক্ষেপ নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এতদিন ধরে কীভাবে এই বিশাল চক্র অপ্রতিরোধ্য ভাবে কাজ চালিয়ে গেল? তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই পরিস্থিতিতে নজর এখন আদালতের দিকে এই মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এবং আদৌ কি সমস্ত দোষীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে, সেটাই দেখার।