‘আমার সঙ্গে আলোচনাই করা হত না’, বাজেট নিয়ে মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক চন্দ্রিমা

কলকাতা: বাজেট নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিলেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর…

কলকাতা: বাজেট নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিলেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর চন্দ্রিমা অভিযোগ করলেন, দীর্ঘ সময় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকলেও রাজ্যের বাজেট তৈরির সঙ্গে তাঁর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্কই ছিল না। তাঁর কথায়, ‘‘আমার সঙ্গে আলোচনা করে কখনওই বাজেট তৈরি হয়নি। জনতা যখন বাজেট জানত, আমি তার কয়েক ঘণ্টা আগে জানতে পারতাম।’’

বাজেট নিয়ে ‘গোপনীয়তার শপথ’

শুক্রবার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের পরেই যাবতীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন চন্দ্রিমা। শনিবার নিজের ইস্তফাপত্র মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর পরই সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন। চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘আমাকে দিয়ে বাজেট বলিয়ে নেওয়া হত মাত্র। কে সেই বাজেট তৈরি করতেন, তা আমি জানি না। হয়তো মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের থেকে শুনে আমার ওপর চাপিয়ে দিতেন।’’ বাজেট সংক্রান্ত বিষয়ে কেন এতদিন মুখ খোলেননি? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর সাফ জবাব, ‘‘গোপনীয়তা বজায় রাখার শপথ নিয়েছিলাম। সেটা খানিকটা তো রাখতে হবে।’’

   

ট্রেড মিল বিতর্ক ও চিরকুটের স্মৃতি

বাজেট পেশের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত ‘ট্রেড মিলে হাঁটতে হাঁটতে বাজেট তৈরি’ করার মন্তব্য নিয়ে এক সময় রাজনৈতিক মহলে বিস্তর চর্চা হয়েছিল। চন্দ্রিমা এ দিন সেই প্রসঙ্গ খুঁচিয়ে তুলে কার্যত স্বীকার করে নিলেন যে, বাজেট বক্তৃতার সময় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে চলাই ছিল তাঁর কাজ। এমনকি, এক বার বাজেট বক্তৃতার মাঝপথে চিরকুট পাঠিয়ে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণার প্রসঙ্গটিও এ দিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

বিধানসভায় নতুন সমীকরণ?

সব পদ ছাড়ার পরেই শনিবার বিধানসভায় যান চন্দ্রিমা। সেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহাদের সঙ্গে গোল টেবিলে তাঁকে বসতে দেখা যায়। এই ছবি ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। ঋতব্রতপন্থী শিবিরের পক্ষ থেকে চন্দ্রিমার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হলেও, মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের কটাক্ষ, ‘‘এতদিন গুরুত্বপূর্ণ দফতর পাওয়ার সময় তো অভিমান হয়নি! এখন যখন ক্ষমতা যাচ্ছে, তখন এসব কথা মনে পড়ছে।’’

যদিও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, ঋতব্রতদের শিবিরে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি স্রেফ নথি জমা দিতেই বিধানসভায় গিয়েছিলেন। কিন্তু চন্দ্রিমা ও মমতা, এই দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ফাটল যে তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নিশ্চিত। এখন দেখার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের এই মুখ খোলার নেপথ্যে আর কী কী ‘গোপন তথ্য’ লুকিয়ে আছে।