বারাসাত: মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে এক উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করল রাজ্য পুলিশ। একজন আইজি পদমর্যাদার আধিকারিকের নেতৃত্বে এই বিশেষ দলে বিভিন্ন জেলার দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বারাসাত হাসপাতালে চন্দ্রনাথের নিথর দেহে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে শুভেন্দু অধিকারী পুলিশের পেশাদারিত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন।
আইজি-র নেতৃত্বে সিট ও ফরেন্সিক হানা
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও অপরাধীদের চিহ্নিত করতে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি সিট গঠন করা হয়েছে। এদিন তদন্তের অংশ হিসেবে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দল মধ্যমগ্রামের দোহরিয়ার সেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। উদ্ধার করা হয়েছে বুলেটের খোল ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। আইজি-র নেতৃত্বাধীন এই টিম এখন দুষ্কৃতীদের টাওয়ার লোকেশন ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।
‘পুলিশ পারে না এমন কাজ নেই’: শুভেন্দু
এদিন চন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পুলিশ তদন্ত করছে এবং ডিজিপির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি পুলিশ যথাসময়ে সবটা জানাবে। পুলিশ পারে না এমন কোনও কাজ নেই, আগে হয়তো পুলিশকে কাজ করতে দেওয়া হত না। তবে এখন আমি ওদের ওপর আস্থা রাখতে চাই।” শুভেন্দুর মতে, এই খুনের আগে খুনিরা দীর্ঘ সময় রেইকি করেছে এবং স্থানীয় কারোর সাহায্য ছাড়া বহিরাগতদের পক্ষে এই রেইকি করা অসম্ভব।
রেইকি ও পূর্বপরিকল্পিত ছক
শুভেন্দু আরও জানান যে, পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী অন্তত ২-৩ দিন ধরে চন্দ্রনাথের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, “এটি একটি ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা। দিল্লিতে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। সুকান্ত মজুমদারসহ দলের বিধায়করাও পরিবারের পাশে আছেন।” এদিন বারাসাত হাসপাতালে শুভেন্দুর উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি
পুলিশ সূত্রের খবর, এই হত্যাকাণ্ডে ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পেশাদার শ্যুটাররা এই কাজে জড়িত কি না, সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে সিট। ৪২ বছর বয়সী চন্দ্রনাথের বুকের বাঁ দিকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়েছিল, যা তাঁর প্রাণ কেড়ে নেয়।




















