কলকাতা: ভোটের আগে ‘বাইক বাহিনী’ রুখতে নির্বাচন কমিশনের জারি করা নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। ভোটগ্রহণের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকেই রাস্তায় সাধারণের মোটরবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার সিদ্ধান্তকে কার্যত ‘জনগণের অধিকার হরণ’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করে আদালত প্রশ্ন তোলে, কমিশন কেন নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করছে?
‘জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে দিন’
শুনানি চলাকালীন বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত কড়া। কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেন, “আপনাদের কর্তৃপক্ষ কেন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছেন না? দু’দিন আগে থেকে ইমার্জেন্সি ঘোষণা করে ভোট করানো হোক। তাহলে মানতে হবে যে আপনারা ব্যর্থ।” তিনি আরও যোগ করেন, “নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আছে বলে যা খুশি করা যায় না। আপনারা চাইলে গাড়িও বন্ধ করে দিন!”
ব্যর্থতা ঢাকতে এই পদক্ষেপ? Calcutta High Court Bike Ban Row
আদালত জানতে চেয়েছে, গত পাঁচ বছরে বাইক বাহিনীর গোলমাল পাকানোর কতগুলি নজির রয়েছে বা কতগুলি FIR হয়েছে? বিচারপতির মতে, ২৪ ঘণ্টা আগে নিষেধাজ্ঞা মানা গেলেও তিন দিন আগে থেকে সব স্তব্ধ করে দেওয়া আসলে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা। তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “অন্য কোন রাজ্যে এমন বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে তা দেখান। এটি সম্পূর্ণ অন্যায়।”
শুক্রবারই হলফনামা তলব
কমিশনকে আগামিকাল শুক্রবারের মধ্যে বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কেন ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে এই নিষেধাজ্ঞা এবং অতীতে বাইক নিয়ে ঠিক কী কী অপ্রীতিকর উদাহরণ রয়েছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে হাইকোর্ট। প্রথম দফার ভোট চলাকালীন হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ নির্বাচন কমিশনের জন্য বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করল।




















