‘ঝাল মুড়ি আমি খেয়েছি, ঝাল লেগেছে তৃণমূলের’: মোদী

modi-jhal-muri-remark-krishnanagar-tmc-rally

কৃষ্ণনগর: বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের মাঝে কৃষ্ণনগরে বিশাল জনসভায় উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Modi jhal muri)তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ করলেন । সভায় তিনি ঝালমুড়ির উদাহরণ টেনে বললেন, “আমি ঝাল মুড়ি খেয়েছি, কিন্তু তৃণমূলের লেগেছে ঝাল।” এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে সভাস্থলে হাসির রোল ওঠে এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা স্লোগান দিয়ে সাড়া দেন।ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল কয়েকদিন আগে ঝাড়গ্রামে।


প্রচারের ব্যস্ততার মাঝে প্রধানমন্ত্রী মোদীর গাড়ির কনভয় রাস্তার ধারে থামে। তিনি নিজে নেমে একটি ছোট দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খান। দোকানদারের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁর পরিবার ও জীবনযাত্রা নিয়ে জানতে চান এবং নিজের হাতে দশ টাকা দিয়ে ঝালমুড়ি কিনে খান। সাধারণ মানুষের সঙ্গে এই অনানুষ্ঠানিক মুহূর্তটি ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী সহজভাবে বাংলার জনপ্রিয় স্ন্যাকস ঝালমুড়ি উপভোগ করছেন।

   

আরও দেখুনঃ সিরিজ হাতছাড়া ভারতের, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে লজ্জার হার

কৃষ্ণনগরের সভায় এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, “আমি শুনেছি যে ঝাল মুড়ি খাওয়ায় কারও কারও খুব অসুবিধা হয়েছে। আমি তো ঝাল মুড়ি খেয়েছি, কিন্তু তৃণমূলের লেগেছে ঝাল।” তিনি আরও যোগ করেন যে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই সাধারণ ঘটনাতেও অস্বস্তিতে পড়েছে কারণ তাঁরা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। মোদী বলেন, “তৃণমূলের কাছে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা দেখলে ঝাল লাগে। কিন্তু আমরা তো সেই ঝালই খেতে চাই যে ঝালে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ মিশে থাকে।”

কৃষ্ণনগরের এই সভায় হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং উন্নয়নের অভাব নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বাংলার মাটিতে এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। মানুষ চায় শান্তি, চায় উন্নয়ন, চায় সরকার যা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ায়।”তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য মোদীর এই মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

দলের নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ভান করছেন, কিন্তু বাস্তবে কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার জন্য যথেষ্ট কাজ করেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ এক নেতা বলেন, “মোদীজি ঝালমুড়ি খেয়ে ভোট চাইছেন। কিন্তু বাংলার মানুষ জানেন কে তাঁদের সত্যিকারের সেবা করছে।”এদিকে বিজেপি শিবির এই ঘটনাকে বড় করে তুলে ধরেছে। দলের নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সহজ-সরল আচরণ দেখিয়ে দিয়েছে যে বিজেপি সাধারণ মানুষের দল।

বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। কৃষ্ণনগরসহ নদিয়া জেলার বিভিন্ন আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সভা বিজেপির প্রচারে নতুন গতি এনেছে বলে দলীয় কর্মীরা মনে করছেন। মোদী তাঁর বক্তব্যে বারবার ‘বাংলার পরিবর্তন’-এর কথা বলেছেন এবং দাবি করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে মানুষ তৃণমূলের ‘ঝাল’ সহ্য করতে আর রাজি নয়।