কলকাতা: বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শাসলকালে ২০২০ সালের সুপার সাইক্লোন আম্ফানের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব বাড়িয়ে দেখিয়ে কেন্দ্রের কাছে প্রায় ৩২,০০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে ভারতের মহাহিসাব নিরীক্ষকের একটি রিপোর্ট (CAG Report)। শনিবার বিধানসভায় পেশ হওয়া ২৮টি CAG রিপোর্টের মধ্যে এই পর্যবেক্ষণও রয়েছে।
২০২০ সালের ২০ মে সুপার সাইক্লোন আমফান পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়ে। ঝড়ে রাজ্যের ১৬টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর রাজ্য সরকার ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফান্ড (NDRF) থেকে ৩৫,০১৮ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা চেয়েছিল।
তবে CAG রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের মূল্যায়নের ভিত্তিতে NDRF থেকে ২,৭০৭.৭ কোটি টাকা সহায়তার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি আগের অর্থবর্ষের ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফান্ড (SDRF)-এ অবশিষ্ট অর্থের ৫০ শতাংশ সমন্বয়ের শর্তও রাখা হয়।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন “অতিরঞ্জিত এবং বাস্তবসম্মত ছিল না”। CAG-এর দাবি, এই হিসাব প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ প্রমাণ দিয়ে সমর্থিত ছিল না।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের জন্য রাজ্য সরকার প্রায় ১৮,০০০ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সহায়তা দাবি করেছিল।
বাড়ি নির্মাণের অনুদান বণ্টন নিয়েও একাধিক অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেছে CAG। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত সব বাড়ির পরিবারকে ২০,০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু জুনের পর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির ক্ষেত্রে ২০,০০০ টাকা অনুদান অব্যাহত থাকলেও, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির উপভোক্তারা ২৫,০০০ টাকা করে পেয়েছেন। এই অনুদান বণ্টনের যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে CAG।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণগুলির একটি হলো, ৯,২২৬ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একাধিকবার বাড়ি নির্মাণের অনুদান জমা পড়েছে। CAG-এর হিসাব অনুযায়ী, এই “একাধিক অর্থপ্রদান”-এর মোট পরিমাণ ১৮ কোটি টাকা।
শনিবার ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের CAG রিপোর্টগুলি বিধানসভায় পেশ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, এই রিপোর্টগুলি রাজ্যের আর্থিক অবস্থার “প্রকৃত চিত্র” তুলে ধরবে এবং ৮ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণের কারণ ব্যাখ্যা করবে।
অর্থমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার দীর্ঘদিন ধরে এই নিরীক্ষা রিপোর্টগুলি বিধানসভায় পেশ করেনি। তাঁর কথায়, এটি একটি গুরুতর সাংবিধানিক ত্রুটি। সেই কারণেই এবার একসঙ্গে ২৮ খণ্ড CAG রিপোর্ট বিধানসভার টেবিলে রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী দিনে এই রিপোর্টগুলি নিয়ে বিশেষ বিধানসভা অধিবেশন ডাকার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং সরকারের ভুলত্রুটি জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
শনিবার পেশ হওয়া রিপোর্টগুলির মধ্যে রাজ্যের অর্থ হিসাব, বরাদ্দ হিসাব, বিভিন্ন দফতরের কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্ট, জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্য পরিষেবার কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন, পঞ্চায়েত রাজ প্রতিষ্ঠান, সমন্বিত শিশু বিকাশ পরিষেবা (ICDS), সমগ্র শিক্ষা কর্মসূচির বাস্তবায়ন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের নিরীক্ষা রিপোর্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের





