ভোটের আগে মাস্টারস্ট্রোক! বিজেপির ইশতেহার তৈরিতে মহা চকমক

কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির গতানুগতিক ধারায় বড় বদল আনতে চলেছে রাজ্য বিজেপি। দলীয় নেতৃত্বের অন্দরমহলে বসে খসড়া তৈরির পরিবর্তে, সরাসরি সাধারণ মানুষের মতামত ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
BJP election manifesto West Bengal

কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির গতানুগতিক ধারায় বড় বদল আনতে চলেছে রাজ্য বিজেপি। দলীয় নেতৃত্বের অন্দরমহলে বসে খসড়া তৈরির পরিবর্তে, সরাসরি সাধারণ মানুষের মতামত ও সমস্যার নির্যাস নিয়েই এবারের নির্বাচনী রূপরেখা বা ‘সংকল্পপত্র’ প্রণয়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গেরুয়া শিবির। দলের লক্ষ্য, মানুষের চাওয়া-পাওয়ার নিরিখেই তৈরি হোক আগামী দিনের শাসনের নীল-নকশা।

শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিনব উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানান, রাজ্যের প্রান্ত থেকে প্রান্তে মানুষের কাছে পৌঁছে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ গ্রহণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সামিল করার জন্য ড্রপ-বক্স, বিশেষ টোল-ফ্রি নম্বর এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার করা হচ্ছে।

   

‘সংকল্পপত্র’ তৈরিতে বিজেপির গৃহীত পদক্ষেপ

১০০০টি ড্রপ-বক্স: আজ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ১,০০০টি নির্দিষ্ট স্থানে ড্রপ-বক্স বসানো হচ্ছে। সেখানে সাধারণ মানুষ লিখিতভাবে তাঁদের মতামত বা দাবি জমা দিতে পারবেন।

টোল-ফ্রি নম্বর: জনসাধারণের মতামত গ্রহণের জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ নম্বর- ৯৭২৭২৯৪২৯৪।

ডিজিটাল ও সরাসরি যোগাযোগ: কিউআর কোড স্ক্যান করে বিজেপির ওয়েবসাইটে মতামত জানানোর পাশাপাশি, সমাজের বিশিষ্টজন ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের কাছে ১০ হাজার চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

লক্ষ্য শিল্পবান্ধব ও স্বনির্ভর বাংলা BJP election manifesto West Bengal

সাংবাদিক সম্মেলনে শমীক ভট্টাচার্য শিল্পায়নের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে ভারী শিল্প আনতে হলে কী কী করা দরকার, শিল্পবান্ধব রাজ্য গড়তে কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, সেই বিষয়ে আমরা শিল্পপতি ও বিশেষজ্ঞ মহলের কাছ থেকেও পরামর্শ চাইছি।”

রাজনীতির নতুন ধারা

অতীতের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি সভাপতি কটাক্ষের সুরে বলেন, “আগে বাংলায় দেখা গিয়েছে, নির্বাচনের একেবারে শেষ মুহূর্তে মুষ্টিমেয় কিছু নেতা ঘরে বসে ইশতেহার তৈরি করতেন। আমরা সেই ধারা ভাঙতে চাই।” মানুষের মতামতের ওপর ভিত্তি করে ‘জনমুখী সরকার’ গড়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আর ১০০ দিনেরও কম সময় বাকি থাকতে বিজেপির এই পদক্ষেপ ভোটারদের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা। আশা করা হচ্ছে, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকেই এই জন-আকাঙ্ক্ষার সংকল্পপত্র জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা হবে।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google