তৃণমূল জমানায় শিক্ষক ও পুরসভা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে ওঠা একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ এবং স্বজনপোষণের বিতর্কের আবহে রাজ্যের নতুন সরকার এবার নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ঘোষণা করেছে। সোমবার নন্দীগ্রামে ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারি চাকরির পরীক্ষায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের কথা জানান, যা ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীরা নিজেদের ওএমআর (OMR) শিটের কপি সঙ্গে করে বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন। এতদিন পরীক্ষার পর ওএমআর শিট শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে থাকত, ফলে স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরীক্ষার্থী নিজের উত্তরপত্র যাচাই করে রাখার সুযোগ পাবেন, যা ভবিষ্যতে ফল প্রকাশ নিয়ে কোনও ধরনের বিভ্রান্তি বা অভিযোগ কমাতে সাহায্য করবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
এই ঘোষণার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপোষণ ও অনিয়ম রুখতে ইন্টারভিউ বা মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে লিখিত পরীক্ষার উপরই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল যে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় প্রভাব খাটিয়ে কিছু প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তাই সেই জায়গায় স্বচ্ছতা আনার জন্য লিখিত মূল্যায়নকেই প্রধান মানদণ্ড করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্য সরকার প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে শিক্ষা এবং পুরসভা স্তর পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, পূর্ববর্তী জমানায় শিক্ষক নিয়োগ এবং পুরসভা নিয়োগ কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা রাজ্যের প্রশাসনিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। সেই “অস্বচ্ছতা ও বেনিয়মের সংস্কৃতি” দূর করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
এর আগে শিয়ালদহে আয়োজিত ‘রোজগার মেলা’-তে মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে পরীক্ষার ওএমআর শিটের কার্বন কপি বা অনুলিপি পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সেদিন তিনি বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের উত্তরপত্র যাচাইয়ের সুযোগ পাননি, যার ফলে অনেক সময়ই সন্দেহ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, স্বচ্ছতার অভাব থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ জন্ম নিয়েছে।





