বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের (Baruipur Minor Girl Case) ঘটনায় উত্তেজনা অব্যাহত। ঘটনার প্রতিবাদে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার বারুইপুরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুরের দিকে বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপারের কার্যালয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কথা বলতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।
সূত্রের খবর, নির্যাতিতার মা-বাবাকেও পুলিশ সুপারের অফিসে(Baruipur Minor Girl Case) নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানেই তাঁদের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরাও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।
এর আগে মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যের ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত। তিনি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং তদন্তের বিষয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ঘটনার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই নির্যাতিতার বাড়িতে রাজনৈতিক নেতাদের যাতায়াত শুরু হয়। সকালে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধিদল নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যায়। তবে বাড়িতে পৌঁছনোর আগেই তাঁদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীরা তাঁদের উদ্দেশে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘গদ্দার’, ‘বেইমান’ এবং ‘বালিশচাটা’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও পরে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল নির্যাতিতার বাড়িতে যায়। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পাশে থাকার বার্তা দেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। তাঁরা পরিবারের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেন। এর পাশাপাশি নির্যাতিতার বাড়িতে যান কাকলি ঘোষদস্তিদার এবং সায়নী ঘোষ। তাঁদের সফর ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর সায়নী ঘোষ জানান, সরকার যাতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, সেটাই তাঁরা চান। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।
সায়নী ঘোষ আরও জানান, এই ঘটনায় (Baruipur Minor Girl Case) কঠোরতম শাস্তির দাবি করছেন। তাঁর বক্তব্য, অপরাধীদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়। তিনি দোষীদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও জানান।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তিনিও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নেন। রাজনৈতিক দলগুলির একাধিক প্রতিনিধির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।




