নয়াদিল্লি: লোকসভায় নজিরবিহীন ভাঙনের মুখে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন খোদ দিল্লিতে উপস্থিত, ঠিক তখনই স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে দলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তৃণমূলের একঝাঁক বিদ্রোহী সাংসদ। সোমবার ঠিক দুপুর ১২টা ৫৩ মিনিটে ২০ জন দলীয় সাংসদের স্বাক্ষর সম্বলিত এই চিঠি জমা পড়েছে স্পিকারের দফতরে। বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এবং বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে একটি বৈঠকের পরেই এই নাটকীয় পদক্ষেপ নেন বিদ্রোহীরা।
বিদ্রোহী সাংসদদের মূল সিদ্ধান্ত কী?
স্পিকারের দফতরে জমা দেওয়া ওই চিঠিতে বিদ্রোহীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁরা এখনই ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না। তবে তাঁরা এনডিএ (NDA) জোটে শামিল হতে চান। অর্থাৎ, লোকসভার ভেতরে তৃণমূলের একটি পৃথক ব্লক বা গোষ্ঠী তৈরি করে তাঁরা এনডিএ-র অংশ হিসেবে কাজ করবেন। স্পিকার যদি এই চিঠি গ্রহণ করেন, তবে লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দল কার্যত দুই টুকরো হয়ে যাবে। তবে সোমবার স্পিকার ওম বিড়লা অন্য একটি রাজ্যের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ায় নিজে লোকসভায় উপস্থিত ছিলেন না, ফলে চিঠিটি তাঁর অফিসেই জমা দেওয়া হয়েছে।
মুখ্য সচেতক পদের আইনি ফাঁক ব্যবহার কাকলির
লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন, যার মধ্যে ২০ জনই এই চিঠিতে সই করেছেন বলে দাবি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাকলিকে লোকসভার মুখ্য সচেতক (Chief Whip) পদ থেকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তবে এদিন কাকলি নিজেকেই মুখ্য সচেতক দাবি করে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, দল তাঁকে সরালেও লোকসভার রেকর্ডে এখনও তাঁর নামই মুখ্য সচেতক হিসেবে রয়েছে। কারণ, এই সিদ্ধান্তের পর লোকসভার নতুন কোনও অধিবেশন বসেনি।
বিদ্রোহীদের তালিকায় হেভিওয়েটদের নাম
সূত্রের খবর অনুযায়ী, যে ২০ জন সাংসদ তৃণমূলের সংসদীয় দল ভাঙার পক্ষে সই করেছেন, তাঁদের মধ্যে বেশ কিছু তারকা ও হেভিওয়েট নেতা রয়েছেন। তালিকায় উল্লেখযোগ্য নামগুলি হল, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, দেব (দীপক অধিকারী), রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ ভৌমিক, ইউসুফ পাঠান, খলিলুর রহমান, শর্মিলা সরকার, অসিত মাল, জগদীশ বসু নিয়া, কালীপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী, সাজদা আহমেদ এবং বাপি হালদার। রাজনৈতিক মহলের মতে, খোদ দলনেত্রীর দিল্লি সফরের মাঝেই এই ঘটনা তৃণমূলের অন্দরে এক চরম অস্বস্তির আবহ তৈরি করল।





