নয়াদিল্লি: আধার কার্ড নিয়ে অভিভাবকদের সামান্য অসাবধানতা এখন শিশুদের ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনার ক্ষেত্রে বড়সড় বিপত্তি ডেকে আনছে। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও শিশুদের বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক তথ্য আপডেট না করানোর ফলে আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় (Deactivated) হয়ে যাওয়ার ঘটনা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে এই ধরনের ১০০-রও বেশি ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। এর ফলে আধার প্রমাণীকরণ বা অথেন্টিকেশন প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যার জেরে সন্তানদের স্কুল-কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন জরুরি সরকারি সুবিধা পেতে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে পরিবারগুলিকে।
ইউআইডিএআই (UIDAI)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিশুদের বয়স ৫ বছর এবং ১৫ বছর পূর্ণ হলে আধারের বায়োমেট্রিক ডেটা সংশোধন বা আপডেট করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক। প্রকৃতপক্ষে, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের যখন প্রথম আধার কার্ড তৈরি হয়, তখন তাদের আঙুলের ছাপ (Fingerprint) কিংবা চোখের মণির (Iris) মতো গুরুত্বপূর্ণ বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। সেই কারণেই শিশু ৫ বছরে পা দিলেই এই প্রথম বাধ্যতামূলক আপডেটটি করাতে হয়। কিন্তু বহু পরিবার এই নিয়মটি সম্পর্কে সঠিক সময়ে জানতে না পারায় বা গুরুত্ব না দেওয়ায়, নির্ধারিত মেয়াদের পর আধার কার্ডগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকেজো হয়ে পড়ছে।
আধার কেন্দ্রগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন বহু অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের নিয়ে সমস্যার সমাধান করতে আসছেন। কার্ড নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার কারণে স্কুল-কলেজের সাধারণ ভর্তি প্রক্রিয়া, বিভিন্ন প্রবেশিকা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার অনলাইন রেজিস্ট্রেশন আটকে যাচ্ছে। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের বিভিন্ন ধরনের সরকারি স্কলারশিপ বা বৃত্তি পাওয়া, নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা এবং সরাসরি সরকারি অনুদান বা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই আধার কার্ড আর বৈধ নথি হিসেবে গৃহীত হচ্ছে না।
অনেকেরই ধারণা আধার সংক্রান্ত সমস্ত কাজ ঘরে বসেই পোর্টালের মাধ্যমে করা যায়। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, যেহেতু এখানে আঙুলের ছাপ এবং চোখের মণি নতুন করে স্ক্যান করতে হয়, তাই এই সুবিধা কোনওভাবেই অনলাইনে উপলব্ধ নয়। এর জন্য শিশুকে সশরীরে নিকটবর্তী আধার সেবা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া আবশ্যিক। তবে এই প্রক্রিয়ার একটি ইতিবাচক দিক হলো, ৫ এবং ১৫ বছর বয়সের এই বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক আপডেটের জন্য সরকার কোনও টাকা বা ফি নেয় না, এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়। তাই ভবিষ্যৎ জটিলতা ও জরুরি পরিষেবা বন্ধ হওয়া এড়াতে, আপনার সন্তানের বয়স ৫ বা ১৫ বছর হলেই দ্রুত আধার কেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




















