কলকাতা: রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বিরাট সুখবর। কথা ছিল আগামী ১ এপ্রিল থেকে চালু হবে রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘যুব সাথী’। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই, শনিবার (৭ মার্চ) থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা ঢোকা শুরু হচ্ছে। শনিবার মেট্রো চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে এই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন আন্তর্জাতিক নারী দিবস (৮ মার্চ)-এর উপহার হিসেবেই দিনক্ষণ এগিয়ে এনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এগিয়ে এল দিনক্ষণ, মিলল নারী দিবসের উপহার
এদিন ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যুব সাথী প্রকল্পের ভাতা দেওয়ার জন্য প্রথমে ১ এপ্রিল তারিখটি ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু কাজ আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় শনিবার থেকেই সরাসরি প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়া হল।
‘যুব সাথী’ প্রকল্পে আবেদনের পরিসংখ্যান ও সুবিধা West Bengal Yuva Sathi Scheme
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে এই প্রকল্প আনা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি যুবক-যুবতী এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদন করেছেন।
এই প্রকল্পে যোগ্য বিবেচিত আবেদনকারীরা প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। একজন উপভোক্তা সর্বাধিক ৫ বছরের জন্য এই প্রকল্পের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
কারা পাবেন এই ভাতা? (যোগ্যতামান)
আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ন্যূনতম মাধ্যমিক বা তার সমতুল্য পরীক্ষায় পাশ করে থাকতে হবে।
আবেদনকারীকে সম্পূর্ণ বেকার হতে হবে। যাঁরা কোনও চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
ছাড় রয়েছে শিক্ষামূলক প্রকল্পে
রাজ্য সরকারের নিয়মানুযায়ী, যাঁরা ইতিমধ্যেই সরকারের অন্য কোনও ভাতা বা প্রকল্পের সুবিধা পান, তাঁরা সাধারণত ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের আওতায় আসবেন না। তবে এই নিয়মে একটি বড়সড় ছাড় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্কলারশিপ, শিক্ষাশ্রী, কন্যাশ্রী বা রূপশ্রীর মতো প্রকল্পগুলির টাকা পড়ুয়ারা তাদের পড়াশোনার কাজেই ব্যবহার করেন। তাই এই শিক্ষামূলক প্রকল্পগুলির সুবিধা পেলেও, একজন যোগ্য আবেদনকারী ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের ভাতা পেতে পারেন। এতে তাঁদের পড়াশোনা এবং কর্মসংস্থানের প্রস্তুতিতে আরও সুবিধা হবে।




















