কলকাতা: রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই পুলিশ প্রশাসনকে দলমত নির্বিশেষে কড়া হাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই নির্দেশের পরই জোড়া মেগা ‘অ্যাকশন’-এর সাক্ষী থাকল বঙ্গবাসী। মুখ্যমন্ত্রীকে আত্মঘাতী হামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে কলকাতা পুলিশের জালে ধরা পড়ল এক যুবক। অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার হলেন তৃণমূলের এক প্রভাবশালী নেতা।(West Bengal police arrest threat email accused)
মুখ্যমন্ত্রীকে ওড়ানোর হুমকি, গার্ডেনরিচ থেকে ধৃত যুবক
ভবানীপুর থানায় আসা একটি হুমকি ইমেল ঘিরে গত ১৪ মে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। ইমেলে ‘আবিদা আলি’ নামে এক মহিলা নিজেকে জঙ্গি সংগঠন ‘আল-কায়েদা’র (Al-Qaeda) সদস্য দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর আত্মঘাতী হামলার হুমকি দেন।
অভিযোগ পেয়েই আসরে নামে কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল ও এসটিএফ (STF)। আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করে গার্ডেনরিচ এলাকা থেকে ২৭ বছরের হাসনাইন ইকবাল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ভি. সলোমন জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এক মহিলাকে ফাঁসাতেই তাঁর নাম ব্যবহার করে এই ভুয়ো ইমেল পাঠিয়েছিল হাসনাইন। অভিযুক্তের মেলবক্স থেকেও পাঠানো ইমেলটি উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে হাসনাইনের গভীর জ্ঞান রয়েছে এবং সে আইপি অ্যাড্রেস বদল করতে সিদ্ধহস্ত। এর আগেও নির্বাচন কমিশনসহ একাধিক সরকারি সংস্থাকে সে একই ধরনের হুমকি ইমেল পাঠিয়েছিল।
মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে তৃণমূল নেতা গ্রেফতার
অন্যদিকে, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে বড়সড় ধরপাকড় চালাল পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে ক্যানিংয়ের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা উত্তম দাসকে। উত্তম দাস ক্যানিং ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাসের দাদা হিসেবেই এলাকায় পরিচিত।
তাঁকে গ্রেফতার করতে গিয়ে যাতে কোনও অশান্তি বা বাধা তৈরি না হয়, তার জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছিল পুলিশ। উত্তম দাসের গোটা বাড়ি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছিল।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ক্যানিং থানার তৎকালীন আইসি সাসপেন্ড হওয়ার পর নতুন আইসি দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারি সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই উত্তম দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ঠিক কোন মামলায় তাঁকে ধরা হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও সরকারিভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। রাজ্যের এই জোড়া পুলিশি অ্যাকশন নিয়ে আপাতত সরগরম বঙ্গ রাজনীতি।




















