হরগোবিন্দ-চন্দনদের ভুলে তপসিয়ার পাশে সিপিএম

তপসিয়ায় রাজ্য সরকারের বুলডোজার অভিযানে স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। (Topsia bulldozer)সেই কৃতিত্ব দাবি করে প্রচার করছে সিপিএম। দুর্গততের ত্রাতা হিসেবেও জোরাল প্রচার শুরু হয়েছে। এতেই প্রশ্ন, জাফরাবাদের হরগোবিন্দ দাস ...

By Rana Das

Published:

Follow Us
cpm-role-topsia-bulldozer-controversy

তপসিয়ায় রাজ্য সরকারের বুলডোজার অভিযানে স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। (Topsia bulldozer)সেই কৃতিত্ব দাবি করে প্রচার করছে সিপিএম। দুর্গততের ত্রাতা হিসেবেও জোরাল প্রচার শুরু হয়েছে। এতেই প্রশ্ন, জাফরাবাদের হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস তো সিপিএমের সদস্য ছিলেন। তাঁদের পাশে কেন থাকলেন না কমরেড? এক বছর আগে তাঁদের কুপিয়ে খুন করা হয়। সেই অভিযুক্তদের বাঁচাতে মামলা লড়েন সিপিএম পন্থী আইনজীবী।

তপসিয়ার ঘিঞ্জি এলাকায় বহুতল। সেখানকার কারখানায় আগুন লেগে জোড়া মৃত্যু। সেই ঘটনার পর রাজ্য সরকারের নজরে এসেছে তপসিয়া এলাকার বহুতল। সবই নাকি বেআইনি বলে দাবি। সেই বহুতল ভাঙার কাজ শুরু করে সরকার। সেখানকার বাসিন্দাদের বাঁচাতে আদালতে যায় সিপিএম। হাইকোর্টের নির্দেশে আপাতত তপসিয়ার বহুতলে বুলডোজার চলবে না। এই স্থগিতাদেশকেই বড় সাফল্য বলে প্রচার করছে সিপিএম। সেই সঙ্গে তৃণমূলকে সরিয়ে নিজেদের সংখ্যালঘু-দরদি হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে।

   

আরও দেখুনঃ অ্যাকশন মোডে পুলিশ! মুখ্যমন্ত্রীকে ‘আল-কায়েদা’র হুমকি দিয়ে ধৃত যুবক

এতেই উঠে আসছে ১৩ মাস আগের ঘটনা। গত বছরের এপ্রিলে ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উত্তাল হয় মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ-ধুলিয়ান। বেছে বেছে হিন্দুদের উপরে আক্রমণ করা হয়। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছেড়ে পালান। আশ্রয় নেন মালদহের বৈষ্ণবনগরের স্কুলে। সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। সিপিএম কর্মী হরগোবিন্দ দাস এবং তাঁর ছেলে চন্দনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি আউড়ায় সিপিএম। মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিহত পিতা-পুত্রের নামও ঠিক করে উচ্চারণ করতে পারেননি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। যে আইনজীবী জাফরাবাদের অভিযুক্তদের বাঁচাতে লড়ছেন তিনি আবার সিপিএম নেতা।

তপসিয়ায় অবাঙালি সংখ্যালঘুদের বাঁচাতে সিপিএমের কীর্তি দেখে ক্ষোভ বাড়ছে, প্রশ্ন উঠছে। তপসিয়ার সংখ্যালঘুদের ভোট গিয়েছে তৃণমূলের ঝুলিতে। অথচ হরগোবিন্দ দাসের পরিবার ছিল সিপিএমের কর্মী। তাঁদের পাশে দাঁড়াতে গিয়েও ভোটের অঙ্ক কষেছে সিপিএম। বৃহত্তর সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের লোভে খুনি এবং তাঁদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে সুর চড়ায়নি। এখন সেই একই লোভে তপসিয়ার সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়াচ্ছে সিপিএম।

অনেকেই বলেন, খোলা চোখে দেখলে স্পষ্ট বোঝা যায় তপসিয়ায় বহুতল নির্মাণে কোনও আইন মানার হয়নি। সেই অবৈধ বহুতল বাঁচাতে চাইছে সিপিএম। বাসিন্দাদের প্রশ্ন, সরকার এতদিন কেন কিছু করেনি? আচমকা কেন বুলডোজার অভিযান? জবাবে বিজেপির অনেকে বলছেন, এতদিন রাজ্যে তোষণবাজ তৃণমূল সরকার ছিল। এখনও কলকাতা পুরসভা তৃণমূলের দখলে। বঙ্গে বিজেপির উত্থান ২০১৯ থেকে। সিপিএম-তৃণমূল আঁতাঁতেই বেআইনি বহুতল গজিয়েছে তপসিয়ায়।

Rana Das

Rana Das pioneered Bengali digital journalism by launching eKolkata24.com in 2013, which later transformed into Kolkata24x7. He leads the editorial team with vast experience from Bartaman Patrika, Ekdin, ABP Ananda, Uttarbanga Sambad, and Kolkata TV, ensuring every report upholds accuracy, fairness, and neutrality.

Follow on Google