লখনউ: দেশ জুড়ে নিট (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি নিয়ে যখন তোলপাড়, চক্রের ‘মাথা’ হিসাবে পুণের এক অধ্যাপকের নাম প্রকাশ্যে আসছে, ঠিক তখনই উত্তরপ্রদেশে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। খোদ লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক পরীক্ষার্থীকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল। ওই ছাত্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত অধ্যাপক পরমজিৎ সিংকে গ্রেফতার করেছে। (Lucknow University professor arrested)
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী সম্প্রতি ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রমাণস্বরূপ তিনি অধ্যাপকের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের একটি অডিয়ো রেকর্ডিংও পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন (যদিও এই রেকর্ডিংয়ের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি)। ছাত্রীর অভিযোগ, নিট পরীক্ষায় ভাল নম্বর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষক তাঁকে নানা ভাবে উত্ত্যক্ত করতেন। তাঁর কাছে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র রয়েছে এবং সেটি নেওয়ার জন্য ওই ছাত্রীকে নিজের বাড়িতে দেখা করার জন্য ওই অধ্যাপক বারবার জোরাজুরি করতেন বলে অভিযোগ।
ছাত্রীর অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে অভিযুক্ত অধ্যাপক পরমজিৎ সিংকে গ্রেফতার করে। তবে পুলিশের জেরার মুখে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধৃত অধ্যাপক। তাঁর পাল্টা দাবি, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির শিকার এবং তাঁকে সম্পূর্ণ চক্রান্ত করে ফাঁসানো হচ্ছে।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জে পি সৈনি ইতিমধ্যেই এই ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ অন্তর্তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন কোনও ঘটনা যদি সত্যিই ঘটে থাকে, তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ও বিভাগীয় পদক্ষেপ করা হবে। এই ধরনের অনৈতিক ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ৩ মে দেশজুড়ে নিট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু মাত্র চার দিন পর, ৭ মে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় দেশজুড়ে প্রবল বিতর্ক শুরু হয়। বিতর্কের জেরে গত ১২ মে পরীক্ষাটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। লখনউয়ের এই ঘটনার সঙ্গে নিট কেলেঙ্কারির সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। ওই শিক্ষক ঠিক কোন পরীক্ষার (বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরীক্ষা নাকি নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে চেয়েছিলেন, তা এখনও পুলিশের কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।




















