নয়াদিল্লি: রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানো নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গত ৫ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালত অবিলম্বে বকেয়ার ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দিলেও, এবার সেই বকেয়া মেটানোর সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর করার আবেদন জানাল রাজ্য প্রশাসন। সরকারের এই আর্জিতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ সরকারি কর্মীদের একাংশ। এর প্রতিবাদে আগামী ১৩ মার্চ তাঁরা রাজ্যজুড়ে বনধ বা ধর্মঘটের ডাক দিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
কী ছিল সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ?
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ ডিএ মামলায় রাজ্যকে কড়া নির্দেশ দেয়। শীর্ষ আদালত জানায়৷ বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া কবে এবং কতগুলি কিস্তিতে মেটানো হবে, তা নির্ধারণ করতে চার সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে আদালত। এই কমিটিকে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করতে বলা হয়েছিল, ৩১ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা কীভাবে মেটানো যায়।
কমিটির রিপোর্ট জমার দিনেই রাজ্যের নয়া আবেদন West Bengal Government Seeks Time for DA
শীর্ষ আদালতের তৈরি করে দেওয়া চার সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা, বিচারপতি তিলক সিং চৌহান, বিচারপতি গৌতম মাধুরিয়া এবং ক্যাগ (CAG)-এর একজন প্রতিনিধি। এই কমিটিকে ৬ মার্চের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়েই বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চেই সময়সীমা বাড়ানোর এই নয়া আবেদন জানাল রাজ্য প্রশাসন।
আদালত অবমাননার নোটিশ মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবকে
সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পরেও রাজ্য সরকার বকেয়া মেটাতে কোনও সদর্থক উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ কর্মীদের একটা বড় অংশের। এই অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠিয়েছে সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন। জানা গিয়েছে, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং অর্থসচিব প্রভাত কুমার মিশ্রকে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আগামী ১৩ মার্চ বড়সড় আন্দোলনের পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কর্মীরা।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
সামনেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ডিএ নিয়ে তৈরি হওয়া এই জটিল পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। গত কয়েক বছর ধরে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। তাঁদের এই ক্ষোভকে হাতিয়ার করে শাসক শিবিরের ওপর চাপ তৈরির কোনও সুযোগই হাতছাড়া করতে রাজি নয় বিরোধী দলগুলি।
সব মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের অতিরিক্ত সময় চাওয়ার এই নতুন আবেদনের পর ডিএ মামলা এবার কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।




















