মহারাষ্ট্র: দেশে ভাইরাসের মত ছড়িয়ে পড়ছে সাম্প্রদায়িকতার বিষ। (religious threat)মহারাষ্ট্রের ভিরারে এক অটো ড্রাইভারের হাতে হিন্দু যুবকের উপর চরম ধর্মীয় জুলুমের ঘটনা তার প্রমান। ঘটনাটি সামনে এসেছে একটি ভাইরাল ভিডিওর মাধ্যমে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, অটোর চালক এক তরুণ যাত্রীকে জোর করে ‘সীতারাম’ বলার পরিবর্তে ‘আল্লাহু আকবর’ বলতে বাধ্য করছেন। যুবকটি প্রতিবাদ করলে চালক তাকে গলা কেটে ফেলার এবং যেকোনো সময় খুন করে ফেলার হুমকি দেন।
এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।ভিরারের এক সাধারণ রাস্তায় এই ঘটনাটি ঘটে। যুবকটি অটোয় উঠে নিজের মতো করে ‘সীতারাম’ বলছিলেন, যা অনেক হিন্দু পরিবারে দৈনন্দিন অভ্যাস। হঠাৎ অটো ড্রাইভার তার কথা থামিয়ে দিয়ে বলেন, “সীতারাম নয়, আল্লাহু আকবর বলো।” যুবকটি বিস্মিত হয়ে প্রতিবাদ করলে চালকের মেজাজ আরও চড়ে যায়।
আরও দেখুনঃ ১৫ হাজার টাকা কমল রুপো, সোনার দামেও পতন, স্বস্তিতে ক্রেতারা
ভিডিওতে শোনা যায়, চালক চিৎকার করে বলছেন, “আজ থেকে যেকোনো সময় তোমার গলা কেটে ফেলব, তোমাকে বধ করব।” যুবকটির গলায় স্পষ্ট ভয় ও অসহায়তা ফুটে উঠেছে। তিনি বারবার বলছেন যে তিনি শুধু নিজের ধর্মীয় অভ্যাস অনুসরণ করছিলেন, কিন্তু চালক তাতে রাজি হননি।এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত বিবাদ নয়, বরং ধর্মীয় সহাবস্থানের উপর একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
আরও দেখুনঃ গরমে জলাভাবে শুকিয়ে মরছে পাকিস্তান! কড়া অবস্থানে অনড় মোদী সরকার
মহারাষ্ট্রের ভিরার এলাকা সাধারণত শান্তিপূর্ণ বলে পরিচিত। এখানে হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষ পাশাপাশি বাস করেন। কিন্তু এমন একটি ঘটনা অনেককে ভাবিয়ে তুলেছে যে, ছোট ছোট বিষয় নিয়ে ধর্মীয় উত্তেজনা কত সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যুবকটির পরিবার জানিয়েছে, তিনি এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। রাতে ঘুমাতে পারছেন না, কারণ চালকের হুমকি তাকে ক্রমাগত তাড়া করছে। “আমি শুধু সীতারাম বলেছিলাম, এতে কারও ক্ষতি হয়নি।
কিন্তু তিনি আমাকে যেন শত্রু ভেবে হুমকি দিলেন,” যুবকটি তার কাছের লোকজনকে বলেছেন বলে জানা গেছে।স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ। অনেকে বলছেন, অটো ড্রাইভারের মতো সাধারণ পেশার মানুষের মধ্যে যদি এমন ধর্মীয় জেদ দেখা যায়, তাহলে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা কোথায়? একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা সবাই একই দেশের নাগরিক। একজনের ধর্মীয় স্লোগান অন্যজনকে জোর করে পরিবর্তন করতে বলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সমাজে বিভেদ বাড়বে।” অনেকে পুলিশের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




















