প্যারিস অলিম্পিক্সে সোনার লড়াইয়ের মঞ্চে ওঠার আগেই নাটকীয়ভাবে ছিটকে যাওয়ার পর কুস্তি থেকে অবসর নিয়েছিলেন বিনেশ ফোগাট (Vinesh-Phogat)। কিন্তু দীর্ঘ বিরতির পর ফের ম্যাটে ফিরতে চান ভারতের এই তারকা কুস্তিগির। লক্ষ্য ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্স। সেই প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হিসেবে আগামী মাসে জাতীয় ওপেন র্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিনেশ জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতায় নাম নথিভুক্ত করার জন্য ভারতীয় কুস্তি সংস্থার ওয়েবসাইটে বারবার চেষ্টা করলেও রেজিস্ট্রেশন করা যাচ্ছে না। ওয়েবসাইটে দেখাচ্ছে, নাম নথিভুক্তির সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছে। অথচ সংস্থার পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১০ থেকে ১২ মে উত্তরপ্রদেশের গোন্দায় নন্দিনীনগর মহাবিদ্যালয়ে এই জাতীয় র্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা। এই স্থান নির্বাচন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ গোন্দা একসময় ভারতীয় কুস্তি সংস্থার প্রাক্তন সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিংহের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ওই মহাবিদ্যালয়ও তাঁর উদ্যোগেই তৈরি হয়েছিল।
২০২৩ সালে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে একাধিক মহিলা কুস্তিগির যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন। সেই সময় দিল্লির যন্তরমন্তরে বড় আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন বিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক ও বজরং পুনিয়ার মতো ক্রীড়াবিদেরা। সেই ঘটনার পর ব্রিজভূষণ পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, তাঁর ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমেই এখনও কুস্তি সংস্থার উপর প্রভাব বজায় রয়েছে। বর্তমান সভাপতি সঞ্জয় সিংহকে নিয়েও একই অভিযোগ উঠেছিল। এই পরিস্থিতিতে বিনেশের রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় সন্দেহ আরও বেড়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সমস্যার সমাধানের জন্য সংস্থার দফতরে ফোন করেছিলেন, কিন্তু কেউ ফোন ধরেননি। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিনেশ বলেন, তিনি প্রতিযোগিতায় প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কিন্তু প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে নাম জমা দিতে পারছেন না। যদিও কুস্তি সংস্থার সভাপতি সঞ্জয় সিংহ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে আটকানো হচ্ছে না। অনেক কুস্তিগিরই রেজিস্ট্রেশনে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই এমন হচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন। যাঁরা সমস্যায় পড়ছেন, তাঁরা সরাসরি ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সমাধান করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সংস্থার মতে, এই প্রতিযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখান থেকেই ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, বিশেষ করে এশিয়ান গেমসের ট্রায়ালের রাস্তা খুলবে। যারা সাম্প্রতিক জাতীয় প্রতিযোগিতাগুলিতে অংশ নিতে পারেননি, তাঁদের জন্য এটি শেষ সুযোগ। উল্লেখ্য, প্যারিস অলিম্পিক্সে মহিলাদের ৫০ কেজি বিভাগে ফাইনালে উঠেও শেষ মুহূর্তে ১০০ গ্রাম অতিরিক্ত ওজনের কারণে ছিটকে গিয়েছিলেন বিনেশ। সেই ঘটনার পর গভীর হতাশায় অবসর ঘোষণা করেন তিনি। এখন আবার নতুন স্বপ্ন নিয়ে ফিরতে চাইছেন। তবে প্রত্যাবর্তনের শুরুতেই প্রশাসনিক জটিলতা তাঁর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


















