নয়াদিল্লি: সরকারি অনুষ্ঠানের (Vande Mataram) প্রোটোকলে বড় বদল আনল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সরকারি কর্মসূচিতে জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বা বাজানো বাধ্যতামূলক। বিশেষ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ছয় স্তবকের একটি অনুমোদিত সংস্করণ পরিবেশন করা হবে।
তুলনায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর পূর্ণাঙ্গ পরিবেশনের সময় মাত্র ৫২ সেকেন্ড। নতুন বিধি অনুযায়ী, যদি একই অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘জন গণ মন’—দুটি-ই পরিবেশিত হয়, তবে আগে গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম’, তারপর জাতীয় সঙ্গীত। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, পদ্ম পুরস্কারের মতো অসামরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান এবং রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে আগমন ও প্রস্থানের সময় ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হবে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, জাতীয় সঙ্গীত শুরুর আগে মৃদঙ্গের ধ্বনি বাজানো হবে।
সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ চলাকালীন দাঁড়িয়ে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে সিনেমা হলের মতো স্থানে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। অন্যদিকে, স্কুলগুলিকে প্রতিদিনের সূচি শুরু করার আগে ‘জন গণ মন’ গাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, দেশজুড়ে সরকারি অনুষ্ঠানগুলিতে একরূপতা ও নির্দিষ্ট প্রোটোকল বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ। অনুমোদিত সংস্করণ, সময়সীমা এবং পরিবেশনের ধরণ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশ ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী উদ্যাপন কর্মসূচির সূচনা করেছেন। একটি স্মারক ডাকটিকিট ও স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করে এই উদ্যাপনের উদ্বোধন করেন তিনি। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি।
ঐতিহাসিকভাবে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, অক্ষয় নবমীর দিনে ‘বন্দে মাতরম’ রচনা করেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এই গান ছিল জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রতীক।
এদিকে, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেও জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গানের প্রাধান্য নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা গিয়েছে। নতুন নির্দেশিকা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।




















