নয়াদিল্লি: আজ কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। (Union Budget) আর এই বাজেটেই ফের ছাঁটা হল ইউনুস সরকারের ডানা। এই বাজেটে বাংলাদেশের জন্য প্রকল্প সহায়তা ৫০ শতাংশ কমিয়ে ৬০ কোটি টাকায় নামানো হয়েছে। গত বছরের বাজেট অনুমানে এই খাতে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, কিন্তু বাস্তবে মাত্র ৩৪ কোটি টাকা ব্যবহার হয়েছে। কূটনীতিকদের মতে এই কাটছাঁটের পেছনে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্তেজনাই প্রধান কারণ।
বাজেট নথিতে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য সহায়তা বরাদ্দে ভুটানকে ২,২৮৮ কোটি টাকা, আফগানিস্তানকে ১৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই অর্ধেক কমানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত অর্থবর্ষে বাংলাদেশ মাত্র ৩৪ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে, যা বরাদ্দের তুলনায় অনেক কম। এই অব্যবহারের কারণে সরকার নতুন করে বরাদ্দ কমিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দেশের শ্রমিক-কৃষকদের প্রাপ্তি শুধু বিড়ি! সরব তৃণমূল বিধায়ক
তবে অনেকে এটাকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পতনের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ, মন্দির ভাঙচুর এবং হিংসার ঘটনা বেড়েছে। বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হয়েছে, শতাধিক মন্দিরে হামলা হয়েছে এবং হিন্দু পরিবারগুলো ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এই ঘটনাগুলো নিয়ে ভারতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এই ৬০ কোটি টাকা মূলত গ্রান্টস বা প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ব্যবহার হবে, যেমন পরিকাঠামো, শিক্ষা বা স্বাস্থ্য খাতে। কিন্তু গত বছরের মতো যদি ব্যবহার কম হয়, তাহলে এই বরাদ্দও পুরোপুরি খরচ হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই কাটছাঁট অব্যবহারের কারণে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি দেখে করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলে এটা বাংলাদেশের প্রতি ‘কঠোর বার্তা’ হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা।
বিজেপি নেতা ও বিভিন্ন সংগঠন এই কাটছাঁটকে ‘যৌক্তিক’ বলে সমর্থন করছেন। তাঁরা বলছেন, যখন বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন চলছে, তখন সেই দেশকে আরও বেশি অর্থ দেওয়া ঠিক নয়। কিছু সমালোচক, যেমন AIMIM নেতা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি, এই সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কেন অর্থ দেওয়া হচ্ছে? অন্যদিকে, কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কাটছাঁট দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্তেজনার প্রতিফলন। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে চাপা উত্তেজনা রয়েছে সীমান্ত ইস্যু, অভিবাসন এবং সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে। এছাড়া চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্যও কোনো বরাদ্দ না রাখা হয়েছে, যা ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের প্রভাব দেখাচ্ছে।




















