নয়াদিল্লি: দেশের মাটিতে ফেরার দিনক্ষণ ঘোষণা করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় দুই বছর নির্বাসনে থাকার পর তিনি জানিয়েছেন, এই বছরের ডিসেম্বর মাসে তিনি এবং তাঁর দলের শীর্ষ নেতারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। ৭৯ বছর বয়সী হাসিনা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফেরার পথে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যার ঝুঁকিও রয়েছে, তবুও তিনি পিছু হঠতে রাজি নন।
‘নিজের মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস চাই’
২০২৪ সালের অগস্টে ছাত্র-জনতার প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন হাসিনা। দীর্ঘ ২০ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। গত নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলনে দমন-পীড়নের অভিযোগে তাঁকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। সেই রায়কে অস্বীকার করে হাসিনা বলেন, “আমাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, মেরেও ফেলা হতে পারে। তবুও আমাকে যেতেই হবে। আমার দলের নেতাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চলছে। যদি মৃত্যু আসেই, তবে তা যেন আমার নিজের মাটিতেই হয়, যেখানে আমার বাবা-মা সমাহিত এবং যেখানে তাঁদের রক্ত ঝরেছে।”
রাজনীতিতে ফেরার সংকল্প
হাসিনা জানান, নির্বাসনে থাকলেও তিনি বাংলাদেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টিতে অনলাইনে দলের সভা করেছেন এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার তাঁকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও জনগণই শেষ বিচারক। তিনি বলেন, “সরকার ভুল করতেই পারে, কিন্তু কে ভালো আর কে খারাপ, তার বিচার করার অধিকার দেশের মানুষের। আমি সেই বিচারের ভার জনগণের ওপরই ছেড়ে দিয়েছি।”
সরকারের প্রতিক্রিয়া
হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, তাঁর প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, “দণ্ডিত পলাতক আসামির মন্তব্য নিয়ে সরকার মাথা ঘামাচ্ছে না।” উল্লেখ্য, ঢাকা সরকার ইতিমধ্যেই ভারতকে একাধিকবার হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে।রাজনৈতিক মহলের মতে, হাসিনার এই প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও তীব্র করতে পারে। একদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ, অন্যদিকে বর্তমান সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লড়াই, সব মিলিয়ে ডিসেম্বরের পরিস্থিতি এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘চুপ করাতে হলে আমাকে মারতে হবে’, বিজেপিকে চরম হুঁশিয়ারি মমতার
১৬ বছর প্রতীক্ষার অবসান: মূল থানার দায়িত্বে দুই মহিলা ওসি, চেনেন তাঁদের?





