তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন। ২০১০ সালে জোহানেসবার্গের সেই মায়াবী রাতের ঠিক ১৬ বছর পর, ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে…

spain-beat-argentina-to-win-fifa-world-cup-2026-ferran-torres-goal

বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন। ২০১০ সালে জোহানেসবার্গের সেই মায়াবী রাতের ঠিক ১৬ বছর পর, ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে ফের একবার বিশ্বজয়ের মুকুট উঠল স্প্যানিশ আর্মাডার মাথায়। রবিবার রাতের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে লিয়োনেল মেসির ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে খেতাব জিতে নিল স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে দুই দলই গোলশূন্য থাকার পর, অতিরিক্ত সময়ের চরম নাটকীয়তায় লেখা হল বিশ্ব ফুটবলের নতুন এক ইতিহাস।

গোটা ম্যাচ জুড়েই ছিল স্প্যানিশ মিডফিল্ডারদের একচেটিয়া দাপট। রদ্রি, দানি ওলমো এবং পরে মাঠে নামা পেদ্রিদের চিরাচরিত পাসিং ফুটবলের সামনে বারবার খেই হারিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। তবে প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধে বারবার স্প্যানিশ আক্রমণের সামনে দুর্ভেদ্য ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আর্জেন্টিনার ত্রাতা এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেস। লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো এবং মিকেল ওয়ারজাবালের অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, বলের দখল না পেয়ে স্বভাবসিদ্ধ শারীরিক ফুটবলের রাস্তায় হাঁটে লাতিন আমেরিকার দলটি। লিসান্দ্রো মার্তিনেস, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, ম্যাক অ্যালিস্টার থেকে শুরু করে লিয়ান্দ্রো পারেদেস একের পর এক ফুটবলারকে হলুদ কার্ড দেখতে হয়।

Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

তবে ম্যাচের আসল মোড় ঘুরে যায় ইনজুরি টাইমে। স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসিকে মারাত্মক ফাউল করে বসেন এনজো ফার্নান্দেজ। রেফারি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড অর্থাৎ লাল কার্ড দেখাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। দশ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনার পক্ষে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের তারুণ্যের আগ্রাসন সামলানো একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তাঁর তুরুপের তাসদের মাঠে নামিয়ে ততক্ষণে আক্রমণের ধার বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

অতিরিক্ত সময়ে একজন খেলোয়াড় বেশি থাকার ফায়দা পুরোপুরি কাজে লাগায় স্পেন। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় ১০৬ মিনিটে। স্পেনের লাগাতার আক্রমণের মুখে অবশেষে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে আর্জেন্টিনার জমাট রক্ষণ। বক্সের ভেতর নিকো উইলিয়ামসের একটি নিখুঁত হেড থেকে বল পেয়ে যান পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা ফেরান তোরেস। বিন্দুমাত্র ভুল না করে বাঁ পায়ের জোরালো এবং নিখুঁত শটে এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। এই একটি মাত্র গোলই বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে স্পেনের আধিপত্য কায়েম করল।

Also Read | নন্দনের বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফাইনাল, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিশেষ আয়োজন

পিছিয়ে পড়ার পর দশ জন নিয়েই সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা করেছিল আর্জেন্টিনা। ১১৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মেসির নেওয়া একটি ট্রেডমার্ক দূরপাল্লার শট স্প্যানিশ রক্ষণ ব্লকে আটকে গেলে আর্জেন্টিনার শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়। ১২০ মিনিটের মহাকাব্যিক লড়াইয়ের পর রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই স্প্যানিশ শিবিরের উল্লাস আর আর্জেন্তাইনদের কান্নার ছবি একাকার হয়ে যায়। ইয়ামাল, উইলিয়ামসদের হাত ধরে স্পেন বিশ্ব ফুটবলে নতুন স্বর্ণযুগে প্রবেশ করল, আর ফুটবল বিধাতা মেসির জন্য লিখে রাখলেন এক বেদনাবিধুর বিদায়বেলা।