পাকিস্তানের রাফায়েল ধ্বংসে দাবি নিয়ে নতুন প্রশ্ন, সক্রিয় ভারতের ৩৬ যুদ্ধবিমানই

ভারতীয় বায়ুসেনার সাম্প্রতিক নথিতে ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধবিমানকেই সক্রিয় দেখানো হয়েছে। ফলে পাকিস্তানের ‘রাফায়েল ভূপাতিত’ দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ফের উঠছে প্রশ্ন।

india-36-rafale-jets-active-pakistan-claim-under-question

নয়াদিল্লি: অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ভারতীয় বায়ুসেনার একাধিক রাফায়েল (Rafale) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার যে দাবি বারবার করে এসেছে পাকিস্তান, তা ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সাম্প্রতিক সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ সালের ভারত-ফ্রান্স চুক্তির আওতায় কেনা ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধবিমানই বর্তমানে সম্পূর্ণরূপে সক্রিয় এবং পরিষেবায় রয়েছে।

প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জুন ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ার হেডকোয়ার্টার্সের ডিরেক্টরেট অব ইঞ্জিনিয়ারিং (রাফায়েল) ফরাসি সংস্থা Safran Aircraft Engines-কে একটি ‘ব্রিজ সাপোর্ট’ প্যাকেজের জন্য রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (RFP) পাঠায়। ওই নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারতীয় বায়ুসেনার অধীনে থাকা ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধবিমানের জন্য আগামী দিনেও প্রযুক্তিগত ও রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা প্রয়োজন হবে।

   

Also Read | 

৩৬টি রাফালের জন্যই রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা

নথি অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পরও রাফায়েল বহরের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম বজায় রাখতে এই সহায়তা প্যাকেজের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানে সমস্ত ৩৬টি যুদ্ধবিমানের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

টেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা যায়, আগামী পাঁচ মাসে প্রতিটি রাফায়েল গড়ে বছরে ১৫০ ঘণ্টা উড়ানের হিসাব ধরে মোট প্রায় ২,২৫০ ঘণ্টা উড়ান পরিচালনা করবে। ফলে পুরো বহরকেই সক্রিয় ধরে পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।

পাকিস্তানের দাবির সঙ্গে অসঙ্গতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী একাধিক রাফায়েল ধ্বংস হয়ে থাকত, তাহলে সরকারি নথিতে ৩৬টি যুদ্ধবিমানের জন্য সমন্বিত রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনার উল্লেখ থাকার কথা নয়। ফলে এই নথি পাকিস্তানের প্রচারিত তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-সমর্থিত একাধিক সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট দাবি করেছিল যে ভারতীয় বায়ুসেনার রাফায়েল যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। তবে সেই দাবির পক্ষে কোনও স্বাধীন বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ কখনও সামনে আসেনি।

Also Read | 

২০১৬ সালের চুক্তির উল্লেখ

ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত রাফায়েল চুক্তির আওতায় ৩৬টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ছাড়াও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, খুচরো সরঞ্জাম, ভোগ্যপণ্য এবং পাঁচ বছরের রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমান ‘ব্রিজ সাপোর্ট’ পরিকল্পনা সেই সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও কিছু সময়ের জন্য সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যেই করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত যুদ্ধবিমান বহরকে সর্বদা প্রস্তুত রাখতে এই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি প্রকাশ্যে আসা এই নথি ভারতীয় রাফায়েল বহর নিয়ে পাকিস্তানের প্রচারিত দাবিগুলিকে কার্যত খণ্ডন করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।