কলকাতা: বাংলার বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভোটের অঙ্ক এবং কৌশল। (TMC minority strategy)আর সেই অঙ্কে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক, বিশেষ করে মুসলিম ভোটাররা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১১ সাল থেকে এই ভোটব্যাঙ্কে কার্যত একচেটিয়া প্রভাব বজায় রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও সেই আধিপত্য ধরে রাখতেই মরিয়া ঘাসফুল শিবির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর এমনই ইঙ্গিত মিলেছে।
এবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে যেখানে সংখ্যালঘু প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৩৫, সেখানে ২০২৬-এ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭। অর্থাৎ প্রায় ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি। এই সিদ্ধান্ত যে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটারের প্রায় ৩০ শতাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত, যা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ফ্যাক্টর।
আরও দেখুনঃ রাজধানীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৩ শিশুসহ মৃত ৭
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রায় ১২৫টি আসনে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অন্তত ৭০টি কেন্দ্রে এই ভোটাররাই সরাসরি জয়ের নির্ণায়ক হতে পারেন। পাশাপাশি আরও ৩০ থেকে ৩৫টি আসনে তাঁদের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই ভোটব্যাঙ্ককে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই যে তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য।
অন্যদিকে, বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় কোনও মুসলিম মুখ না থাকা নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। এ প্রসঙ্গে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মুসলিম ভোট বিজেপি তুলনামূলকভাবে কম পায়, তাই যেখানে দলের সমর্থন বেশি, সেখানেই প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপিতে মুসলিম কর্মী থাকলেও সংখ্যায় তারা এখনও অনেক কম।
শুধু সংখ্যালঘু নয়, তৃণমূল এবারও নারী শক্তির উপর জোর দিয়েছে। দলনেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বরাবরই মহিলা প্রার্থীদের গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, আর এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ২০২১ সালে যেখানে মহিলা প্রার্থী ছিলেন ৫০ জন, এবার তা বেড়ে হয়েছে ৫২। অর্থাৎ প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি। এই পদক্ষেপকে মহিলা ভোটারদের আকৃষ্ট করার কৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে বিজেপি ও বাম শিবিরে মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বিজেপির ১৪৪ জন প্রার্থীর তালিকায় মহিলা রয়েছেন মাত্র ১১ জন। আর বামেদের ১৯২টি আসনে মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা ২৮। ফলে মহিলা প্রতিনিধিত্বের দিক থেকে তৃণমূল স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে।
এছাড়াও তফশিলি জাতি ও উপজাতি ভোটারদের দিকেও নজর দিয়েছে তৃণমূল। সংরক্ষিত আসনের থেকেও বেশি সংখ্যায় SC এবং ST প্রার্থী দিয়েছে দলটি। মোট ৯৫ জন SC-ST প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৭৮ জন SC এবং ১৭ জন ST। এই সিদ্ধান্তও ভোটের অঙ্কে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




















