Home Kolkata City অদিতি থেকে দিলীপ, আদালতের দ্বারস্থ তৃণমূল নেতারা

অদিতি থেকে দিলীপ, আদালতের দ্বারস্থ তৃণমূল নেতারা

TMC Heavyweights Move Court in Rapid Succession
TMC Heavyweights Move Court in Rapid Succession

রাজনৈতিক মহলে ফের জোর চর্চা শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের একের পর এক বিধায়কের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়াকে কেন্দ্র করে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক তৃণমূল নেতা ও বিধায়ক বিভিন্ন মামলায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। সেই তালিকায় এবার নাম জুড়ল বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের। সূত্রের খবর, রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। তাঁর মামলার শুনানি হতে পারে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে। আগামী ২৬ জুন এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সক্রিয়তা এবং বিভিন্ন আর্থিক দুর্নীতির মামলায় রাজ্যের শাসকদলের নেতাদের নাম জড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তৃণমূলের একাধিক নেতা আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। অনেকেই আগাম আইনি সুরক্ষা বা রক্ষাকবচের আবেদন জানাচ্ছেন, যাতে তদন্তকারী সংস্থা কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিলে তাঁরা আদালতের সুরক্ষা পান। দিলীপ মণ্ডলের আবেদনও সেই প্রেক্ষিতেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

   

যদিও ঠিক কোন মামলার প্রেক্ষিতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস শিবিরের দাবি, একের পর এক তৃণমূল নেতার আদালতের দ্বারস্থ হওয়া প্রমাণ করছে যে দলের অন্দরে চাপ বাড়ছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।

দিলীপ মণ্ডল বিষ্ণুপুর এলাকার পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি তৃণমূলের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। এলাকায় তাঁর রাজনৈতিক প্রভাবও যথেষ্ট বলেই মনে করা হয়। সেই কারণেই তাঁর আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, আগামী দিনে আরও কিছু তৃণমূল নেতা একই পথে হাঁটতে পারেন।

কলকাতা হাইকোর্টে সম্প্রতি রাজনৈতিক মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাজ্যের শাসকদল এবং বিরোধী শিবির  উভয় পক্ষের নেতারাই বিভিন্ন বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। ফলে আদালতও এখন কার্যত রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

দিলীপ মণ্ডলের মামলার শুনানিতে আদালত কী পর্যবেক্ষণ দেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। আগামী ২৬ জুন সম্ভাব্য শুনানিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আদালত রক্ষাকবচ দেয় কি না, অথবা তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে কোনও মন্তব্য করে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Follow on Google