দলবিরোধী মন্তব্য ঘিরে তৃণমূলে অস্বস্তি, ৫ নেতাকে শো-কজ়

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে যখন তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের অভ্যন্তরীণ(TMC)  অবস্থান পুনর্গঠন ও পর্যালোচনার চেষ্টা করছে, ঠিক সেই সময়েই দলের ভিতর থেকে উঠে আসা কিছু মন্তব্য ঘিরে তৈরি ...

By Suparna Parui

Published:

Follow Us
Mamata and Abhishek election campaign

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে যখন তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের অভ্যন্তরীণ(TMC)  অবস্থান পুনর্গঠন ও পর্যালোচনার চেষ্টা করছে, ঠিক সেই সময়েই দলের ভিতর থেকে উঠে আসা কিছু মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দলবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে এবার পাঁচজন মুখপাত্রকে শোকজ় নোটিস পাঠিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।

দল সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁদের শোকজ় করা হয়েছে তাঁরা হলেন ঋজু দত্ত, কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, কোহিনুর মজুমদার, পাপিয়া ঘোষ এবং কার্তিক ঘোষ। অভিযোগ, নির্বাচনী ফলাফল ও দলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা দলের অবস্থান ও নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছে শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।

   

তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, প্রত্যেককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে। তাঁদের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। দলীয় সূত্রের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য সংগঠনের ভিতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য যাতে না করা হয়, তা নিশ্চিত করা।

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকেই রাজ্যের শাসকদলের ভিতরে কিছুটা অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে আসায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে দলীয় নিয়ন্ত্রণ দৃঢ় রাখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে মুখপাত্রদের মতো দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য দলের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। ফলে তাঁদের কোনও মন্তব্য যদি দলীয় লাইনের বাইরে যায়, তা রাজনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই এই পাঁচ মুখপাত্রের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দল।

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনার সময় কিছু নেতার মন্তব্য নিয়ে আপত্তি ওঠে। সেই মন্তব্যগুলি সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। এর পরই শীর্ষ নেতৃত্ব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ। বিরোধী শিবিরের দাবি, নির্বাচনী ফলাফলের পর তৃণমূলের ভিতরে চাপ ও বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অন্যদিকে শাসকদলের সমর্থকদের মতে, এটি একটি স্বাভাবিক শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা, যার উদ্দেশ্য সংগঠনকে শক্তিশালী রাখা।

ভিডিও নিউজ দেখুন

tmc

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।

Follow on Google